অনলাইন ডেস্ক
একসময় পৃথিবীতে রাজত্ব করত ডাইনোসর। তবে সে সময় আরেক শিকারি নিঃশব্দে দখল করছিল ছোট ছোট প্রাণীদের দেহ। একধরনের পরজীবী ছত্রাক প্রাণীর দেহে নিয়ন্ত্রণ করত তাদের মস্তিষ্ক, আর শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিত তাদের জীবন। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ৯৯ মিলিয়ন (প্রায় ১০ কোটি) বছর আগের এক টুকরো অ্যাম্বারে আবিষ্কার করেছেন এমনই এক ছত্রাকের চিহ্ন, যা মাছি ও পিঁপড়ার শরীর দখল করে নিয়ন্ত্রণ করত তাদের মস্তিষ্ক।
এই ছত্রাকের আচরণ এতটাই ভয়াবহ যে, একে তুলনা করা হচ্ছে জনপ্রিয় ভিডিও গেম ও এইচবিও সিরিজ ‘দ্য লাস্ট অব আস’-এ দেখা জম্বি ছত্রাকের সঙ্গে। এমনকি নিজের সুবিধার জন্য পোষক দেহের আচরণও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এসব ছত্রাক।
উল্লেখ্য, অ্যাম্বার হচ্ছে প্রাচীন বৃক্ষের রেজিন বা গাছের আঠার ফসিল হয়ে যাওয়া একধরনের কঠিন, স্বচ্ছ বা অর্ধস্বচ্ছ পদার্থ, যা হাজার বা লাখো বছর ধরে ভূগর্ভে জমে গিয়ে তৈরি হয়।
মিয়ানমারের একটি অ্যাম্বারে সংরক্ষিত একটি প্রাচীন মাছির মাথা ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে মাশরুমের মতো ছত্রাকের দেহ—দৃশ্যটি যেন একেবারে ভূতুড়ে সিনেমার মতো। একই অ্যাম্বারে ছিল এক পিঁপড়াও, যে একই রকম একটি পরজীবী ছত্রাকে সংক্রমিত হয়েছিল।
চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব প্যালিওনটোলজির পিএইচডি শিক্ষার্থী ইউহুই ঝুয়াং বলেন, ‘অ্যাম্বার আমাদের সামনে তুলে ধরে প্রাচীন জীবজগতের পারস্পরিক সম্পর্কগুলো, যেগুলো ফসিলে দুর্লভভাবে সংরক্ষিত থাকে।’
তিনি আরও জানান, ‘আমরা হাজার হাজার অ্যাম্বার বিশ্লেষণ করেছি, তবে এ দুটি জীবাশ্ম খুবই বিরল। খুব কমই এমন দেখা যায়, যেখানে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের পারস্পরিক সম্পর্ক এত নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত থাকে।’
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘Ophiocordyceps’ গণভুক্ত দুটি নতুন ছত্রাক প্রজাতির নামকরণ করেছেন। পিঁপড়ার শরীরে সংক্রমিত ছত্রাককে Paleoophiocordyceps gerontoformicae ও মাছির দেহে সংক্রমিত ছত্রাককে Paleoophiocordyceps ironomyiae হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা অ্যাম্বার কণাগুলো পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করেছেন অপটিক্যাল মাইক্রোস্কোপ আর মাইক্রো-কম্পিউটেড টোমোগ্রাফি মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে সংক্রমিত পোকাদের ৩ডি ইমেজ।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের তথ্যমতে, আজও অনেক পরজীবী ছত্রাক (entomopathogenic fungi) পিঁপড়া, মাছি, মাকড়সা, সিকাডা ও বিটল প্রজাতির পোকামাকড় সংক্রমিত করে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়ামের জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞ কনরাড লাবান্দেইরা বলেন, ‘আজও এই ছত্রাক কারপেন্টার অ্যান্ট নামের পিঁপড়ার মাথায় আঘাত করে তার মস্তিষ্কে ঢুকে পড়ে এবং তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্যালিওফিওকরডিসেপস (Paleoophiocordyceps) সম্ভবত একই রকম পদ্ধতিতে তার পোষক দেহকে জম্বিতে পরিণত করত।
তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক যুগে মাছির মধ্যে এ ধরনের সংক্রমণ খুবই বিরল, তাই এমন এক মাছির জীবাশ্ম পাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’
গবেষণার সহলেখক ও ডেনিশ ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের ছত্রাকবিদ জোয়াও আরাউজো বলেন, প্রাগৈতিহাসিক পিঁপড়ায় পাওয়া ছত্রাকটি সম্ভবত আজকের ‘জম্বি-অ্যান্ট ফাঙ্গাস’-এর পূর্বপুরুষ, যা পোষক দেহের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।
তিনি আরও বলেন, মাছি ও পিঁপড়া সম্ভবত ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুবরণ করেছিল, তারপর তাদের দেহ গাছের আঠালো রেজিনে আটকে গিয়ে অ্যাম্বারে পরিণত হয়। কারণ, এ ধরনের ছত্রাক সাধারণত পোষক দেহকে হত্যা করেই নিজের দেহ গজায়।
নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির জীববিজ্ঞানী ফিল বারডেন বলেন, অ্যাম্বারে জীবাশ্ম হিসেবে যত প্রাণী দেখি, তার বাইরেও ছিল অগণিত পরজীবী, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক। এগুলোর মাত্র এক ঝলকই আমরা দেখতে পাই।
গবেষণার আরেক সহলেখক ও লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের অধ্যাপক এডমুন্ড জারজেমবোস্কি বলেন, ‘আজকের প্রাকৃতিক জগতে আমরা যেসব বৈচিত্র্য দেখি, তার অনেক কিছুই ডাইনোসরের যুগেও ছিল—এটা ভাবলেই শিহরণ জাগে।’
অ্যাম্বারের ফসিল দুটি এসেছে মিয়ানমারের বিখ্যাত অ্যাম্বার অঞ্চল থেকে। যদিও এই অঞ্চল থেকে পাওয়া অ্যাম্বার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় আবিষ্কারগুলোর উৎস হয়েছে, তবু সেখানে চলমান গৃহযুদ্ধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে এসব অ্যাম্বারের উৎস নিয়ে নৈতিক বিতর্ক রয়েছে।
তবে ইউহুই ঝুয়াং জানান, জীবাশ্ম দুটি ২০১৭ সালের আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং গবেষকদের জ্ঞাতসারে এসবের সঙ্গে কোনো সশস্ত্র সংঘর্ষ বা জাতিগত সহিংসতা জড়িত নয়।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
একসময় পৃথিবীতে রাজত্ব করত ডাইনোসর। তবে সে সময় আরেক শিকারি নিঃশব্দে দখল করছিল ছোট ছোট প্রাণীদের দেহ। একধরনের পরজীবী ছত্রাক প্রাণীর দেহে নিয়ন্ত্রণ করত তাদের মস্তিষ্ক, আর শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিত তাদের জীবন। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ৯৯ মিলিয়ন (প্রায় ১০ কোটি) বছর আগের এক টুকরো অ্যাম্বারে আবিষ্কার করেছেন এমনই এক ছত্রাকের চিহ্ন, যা মাছি ও পিঁপড়ার শরীর দখল করে নিয়ন্ত্রণ করত তাদের মস্তিষ্ক।
এই ছত্রাকের আচরণ এতটাই ভয়াবহ যে, একে তুলনা করা হচ্ছে জনপ্রিয় ভিডিও গেম ও এইচবিও সিরিজ ‘দ্য লাস্ট অব আস’-এ দেখা জম্বি ছত্রাকের সঙ্গে। এমনকি নিজের সুবিধার জন্য পোষক দেহের আচরণও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এসব ছত্রাক।
উল্লেখ্য, অ্যাম্বার হচ্ছে প্রাচীন বৃক্ষের রেজিন বা গাছের আঠার ফসিল হয়ে যাওয়া একধরনের কঠিন, স্বচ্ছ বা অর্ধস্বচ্ছ পদার্থ, যা হাজার বা লাখো বছর ধরে ভূগর্ভে জমে গিয়ে তৈরি হয়।
মিয়ানমারের একটি অ্যাম্বারে সংরক্ষিত একটি প্রাচীন মাছির মাথা ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে মাশরুমের মতো ছত্রাকের দেহ—দৃশ্যটি যেন একেবারে ভূতুড়ে সিনেমার মতো। একই অ্যাম্বারে ছিল এক পিঁপড়াও, যে একই রকম একটি পরজীবী ছত্রাকে সংক্রমিত হয়েছিল।
চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব প্যালিওনটোলজির পিএইচডি শিক্ষার্থী ইউহুই ঝুয়াং বলেন, ‘অ্যাম্বার আমাদের সামনে তুলে ধরে প্রাচীন জীবজগতের পারস্পরিক সম্পর্কগুলো, যেগুলো ফসিলে দুর্লভভাবে সংরক্ষিত থাকে।’
তিনি আরও জানান, ‘আমরা হাজার হাজার অ্যাম্বার বিশ্লেষণ করেছি, তবে এ দুটি জীবাশ্ম খুবই বিরল। খুব কমই এমন দেখা যায়, যেখানে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের পারস্পরিক সম্পর্ক এত নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত থাকে।’
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘Ophiocordyceps’ গণভুক্ত দুটি নতুন ছত্রাক প্রজাতির নামকরণ করেছেন। পিঁপড়ার শরীরে সংক্রমিত ছত্রাককে Paleoophiocordyceps gerontoformicae ও মাছির দেহে সংক্রমিত ছত্রাককে Paleoophiocordyceps ironomyiae হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা অ্যাম্বার কণাগুলো পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করেছেন অপটিক্যাল মাইক্রোস্কোপ আর মাইক্রো-কম্পিউটেড টোমোগ্রাফি মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে সংক্রমিত পোকাদের ৩ডি ইমেজ।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের তথ্যমতে, আজও অনেক পরজীবী ছত্রাক (entomopathogenic fungi) পিঁপড়া, মাছি, মাকড়সা, সিকাডা ও বিটল প্রজাতির পোকামাকড় সংক্রমিত করে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়ামের জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞ কনরাড লাবান্দেইরা বলেন, ‘আজও এই ছত্রাক কারপেন্টার অ্যান্ট নামের পিঁপড়ার মাথায় আঘাত করে তার মস্তিষ্কে ঢুকে পড়ে এবং তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্যালিওফিওকরডিসেপস (Paleoophiocordyceps) সম্ভবত একই রকম পদ্ধতিতে তার পোষক দেহকে জম্বিতে পরিণত করত।
তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক যুগে মাছির মধ্যে এ ধরনের সংক্রমণ খুবই বিরল, তাই এমন এক মাছির জীবাশ্ম পাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’
গবেষণার সহলেখক ও ডেনিশ ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের ছত্রাকবিদ জোয়াও আরাউজো বলেন, প্রাগৈতিহাসিক পিঁপড়ায় পাওয়া ছত্রাকটি সম্ভবত আজকের ‘জম্বি-অ্যান্ট ফাঙ্গাস’-এর পূর্বপুরুষ, যা পোষক দেহের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।
তিনি আরও বলেন, মাছি ও পিঁপড়া সম্ভবত ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুবরণ করেছিল, তারপর তাদের দেহ গাছের আঠালো রেজিনে আটকে গিয়ে অ্যাম্বারে পরিণত হয়। কারণ, এ ধরনের ছত্রাক সাধারণত পোষক দেহকে হত্যা করেই নিজের দেহ গজায়।
নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির জীববিজ্ঞানী ফিল বারডেন বলেন, অ্যাম্বারে জীবাশ্ম হিসেবে যত প্রাণী দেখি, তার বাইরেও ছিল অগণিত পরজীবী, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক। এগুলোর মাত্র এক ঝলকই আমরা দেখতে পাই।
গবেষণার আরেক সহলেখক ও লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের অধ্যাপক এডমুন্ড জারজেমবোস্কি বলেন, ‘আজকের প্রাকৃতিক জগতে আমরা যেসব বৈচিত্র্য দেখি, তার অনেক কিছুই ডাইনোসরের যুগেও ছিল—এটা ভাবলেই শিহরণ জাগে।’
অ্যাম্বারের ফসিল দুটি এসেছে মিয়ানমারের বিখ্যাত অ্যাম্বার অঞ্চল থেকে। যদিও এই অঞ্চল থেকে পাওয়া অ্যাম্বার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় আবিষ্কারগুলোর উৎস হয়েছে, তবু সেখানে চলমান গৃহযুদ্ধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে এসব অ্যাম্বারের উৎস নিয়ে নৈতিক বিতর্ক রয়েছে।
তবে ইউহুই ঝুয়াং জানান, জীবাশ্ম দুটি ২০১৭ সালের আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং গবেষকদের জ্ঞাতসারে এসবের সঙ্গে কোনো সশস্ত্র সংঘর্ষ বা জাতিগত সহিংসতা জড়িত নয়।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
নতুন এক বৈপ্লবিক তত্ত্বের মাধ্যমে মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে প্রচলিত ‘বিগ ব্যাং’ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানালেন আন্তর্জাতিক পদার্থবিদদের এক দল। তাদের দাবি, আমাদের মহাবিশ্বের উৎপত্তি বিগ ব্যাং থেকে নয়, বরং ব্ল্যাকহোল কবা কৃষ্ণগহবর থেকেই সৃষ্টি হয়েছে
১৭ দিন আগেনিয়মিত আকাশপথে ভ্রমণ করা যাত্রীদের জন্য টার্বুলেন্স বা ঝাঁকুনি কোনো নতুন অভিজ্ঞতা নয়। শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলমান বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে এই টার্বুলেন্স মোকাবিলায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।
১৮ দিন আগেবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাক্ষেত্রে অগ্রণী কিছু ভবিষ্যৎদ্রষ্টা মনে করছেন, মানুষ এখন আর আগের মতো কেবল শতবর্ষ আয়ুর স্বপ্ন দেখছে না। বরং এমন এক সময় আসছে, যখন আমরা স্বাভাবিক আয়ুর চেয়ে ১০ গুণ বেশি সময়, অর্থাৎ হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারি।
১৯ দিন আগেআমাদের সূর্যের চেয়ে ৩৬০০ গুণ বেশি ভরের বিশালাকৃতির ব্ল্যাকহোল খুঁজে পেলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এটি এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে বড় ব্ল্যাকহোলগুলোর একটি এবং সম্ভবত সর্ববৃহৎ। ব্ল্যাকহোলটি অবস্থান করছে ‘কসমিক হর্সশু’ নামের একটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রে, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৫০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে।
১৯ দিন আগে