Ajker Patrika

মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণে হবে জুলাই শহীদদের স্মরণে স্থাপত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ২৯ জুন ২০২৫, ১৩: ০৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র - জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় । সেদিন রাজধানী ঢাকার বিজয় সরণির ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ ’ - এ থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল ভাস্কর্য ‘মৃত্যুঞ্জয়’ও ভেঙে ফেলা হয় ।

প্রায় ১০ মাস পর সেই প্রাঙ্গণে থাকা স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের ম্যুরালসংবলিত সাতটি দেয়ালও ভেঙে ফেলেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ( ডিএনসিসি ) । সেই জায়গায় জুলাই শহীদদের স্মরণে স্থাপত্য নির্মাণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে ।

২০২১ ও ২০২২ সালে মহান বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে ‘মৃত্যুঞ্জয়’ নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল ভাস্কর্যটি প্রদর্শিত হয়েছিল । পরে তা স্থাপন করা হয় বিজয় সরণির তেজগাঁও ফ্লাইওভার প্রান্তের মোড়ে । ভাস্কর্যটি ঘিরে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন , স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের কাহিনিসংবলিত ম্যুরাল দিয়ে গড়ে তোলা হয় ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ'।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ আজকের পত্রিকাকে গতকাল শনিবার এ বিষয়ে বলেন , ‘৫ আগস্ট মুজিবের ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এটা এভাবে ফেলে রেখে কোনো লাভ নেই। সেখানে নতুন কিছু যদি করা যায়, সে জন্য আমরা আগে জায়গাটা পরিষ্কার করেছি । সেখানে কী করা যায়, আমরা চিন্তা করে দেখব।'

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায় , গত ২৫ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সপ্তম সভা অনুষ্ঠিত হয় । সেই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় , মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ- এ জুলাই শহীদদের স্মরণে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ এবং একটি উন্মুক্ত স্থান তৈরি করা হবে। সভায় ইতিমধ্যে এর একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে বলেও জানানো হয় । এ প্রেক্ষাপটে শুক্রবার সকাল থেকে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ ’ - এর সাতটি ম্যুরালখচিত দেয়াল ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয় । গতকাল বিকেল পর্যন্ত সেখানে ভাঙার কাজ চলতে দেখা যায়।

গতকাল দুপুরে বিজয় সরণিতে গিয়ে দেখা যায়, চারজন শ্রমিক কাজ করছেন । ওই শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় , তাঁদের কাজ বাইরের কেউ যেন রড বা কোনো মালপত্র নিয়ে যেতে না পারে , সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তা দেখা । রবিউল ইসলাম নামের এক শ্রমিক বলেন , ‘আমাদের কাজ করার জন্য নিয়ে আসছে । সকাল থেকে এখানে যে রড রয়েছে , তা একত্র করলাম । আর পাহারা দিতেছি , যেন কেউ কোনো কিছু নিতে না পারে ।

ভাঙার কাজ দাঁড়িয়ে দেখছিলেন পথচারীদের কেউ কেউ । তাঁদের মধ্যে মো . বকুল নামের এক ব্যক্তি বললেন , ‘এক সরকার তৈরি করবে , আরেক সরকার এসে ভাঙবে। এমন কিছু করুক , যাতে কেউ আর না ভাঙে।’

ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত ডিএনসিসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন , ‘একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে স্থাপনাটি ভাঙার টেন্ডার দেওয়া হয়েছে । তারা তাদের লোক দিয়ে ভাঙার কাজ করছে ।'

প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করার পরও এই প্রতিবেদক সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাননি । তবে ভাঙার কাজ সাব-কন্ট্রাক্ট নেওয়া এক ব্যক্তিকে পাওয়া যায় । তিনি বললন , তাঁকে শ্রমিক দিতে বলা হয়েছে । দিনে পাহারা ও কাজের জন্য শ্রমিক দিয়েছেন । ভাঙার কাজ চলে রাতে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত