অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস তাদের নাগরিকদের ‘বিদেশি বউ কেনা’বিষয়ক অনলাইন ম্যাচমেকিং স্ক্যাম থেকে বিরত থাকতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দূতাবাস গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এ ধরনের অবৈধ এজেন্সি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এই এজেন্সিগুলো আন্তসীমান্ত ডেট এবং বিয়ের ব্যবস্থা করে দেয় বলে প্রচার করে। চীনা দূতাবাস বলেছে, এ ধরনের কার্যকলাপ ‘অর্থ ও ব্যক্তি উভয়ই হারানোর’ কারণ হতে পারে।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, অবৈধ বিয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে পারেন।
চীনা আইন অনুযায়ী, বিদেশে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া যে কোনো সংস্থা অবৈধ। তবে চীনে ব্যাপকভাবে বিয়ে কমে যাওয়া এবং লিঙ্গবৈষম্যের কারণে চীনা পুরুষদের বিদেশি নারী বিয়ে করার প্রবণতা বেড়েছে। এ নিয়ে অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপন দেয় বিভিন্ন সংস্থা। এই বাণিজ্যও এখন বেশ রমরমা।
গত বছর চীনে বিয়ে নিবন্ধনের সংখ্যা ১৯৮০ সালের পর সর্বনিম্ন ছিল। এ বছর মাত্র ৬১ লাখ বিয়ের সনদ ইস্যু করা হয়েছে। সে হিসাবে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের মতে, চীনে পুরুষের সংখ্যা নারীর চেয়ে প্রায় ৩ কোটি বেশি। এটি কয়েক দশকের কঠোর পরিবার পরিকল্পনা নীতির একটি ফল। লিঙ্গবৈষম্য বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে খুব প্রকট। গ্রামে অবিবাহিত পুরুষদের ‘লেফটওভার মেন’ বা ‘উচ্ছিষ্ট পুরুষ’ বলেও কটাক্ষ করা হয়। এই পুরুষেরা একপর্যায়ে হন্যে হয়ে স্ত্রী খুঁজতে থাকেন। কিন্তু অনেকেরই সামর্থ্যে কুলায় না। কারণ কনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল উপহার প্রত্যাশা করা হয়।
চীনা পুরুষেরা সাধারণত ভিয়েতনাম ও লাওসের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে স্ত্রী খুঁজতে যান। কাজটি করে দেওয়ার জন্য বহু অবৈধ সংস্থা দাঁড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ও নেপালের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকেও তাঁরা টাকার বিনিময়ে স্ত্রী জোগাড় করেন!
বেইজিং নিউজ গত বছর বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট প্রকাশ করেছিল। এসব পোস্টে ২ লাখ ইউয়ানের (২৮ হাজার মার্কিন ডলার) বিনিময়ে লাওসের এক তরুণীকে বিয়ের বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছিল।
এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রায়শই স্ক্যাম হয়। অর্থাৎ, কিছু প্রতারক গোষ্ঠী এসব ভুয়া বিজ্ঞাপন চালিয়ে অর্থকড়ি হাতিয়ে নেয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পরে এরা আর স্ত্রী সরবরাহ করে না!
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদপত্র লিগ্যাল ডেইলির প্রতিবেদন অনুসারে, একজন চীনা ব্যক্তি তিন মাসের জন্য পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ১ লাখ ইউয়ান প্রতারণার শিকার হন। আরেকটি ঘটনায়, একজন পাকিস্তানি নারীকে দালালেরা এক চীনার কাছে বিক্রি করেছিল। ওই নারী পুলিশকে জানান, এক চীনা পুরুষ দালালদের টাকা দিয়েছিলেন। পরে তাঁদের মানব পাচারের অভিযোগে আটক করা হয়।
গত বছরের অক্টোবরে জিয়ামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এ ধরনের তৎপরতার পক্ষে সাফাই গেয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন। তিনি বিয়ে কমে যাওয়া এবং লিঙ্গবৈষম্য কমাতে চীনে বিদেশি বধূ আমদানি করার প্রস্তাব করেছিলেন। অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন তিনি। অনেকে মনে করেন, এতে মানব পাচার এবং নিপীড়ন উৎসাহিত হবে।
ঢাকায় চীনা দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের দণ্ডবিধি এবং মানব পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, মানব পাচার সংগঠিত করার জন্য সর্বনিম্ন সাত বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এমনকি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা (৪ হাজার ১১৬ মার্কিন ডলার) জরিমানা হতে পারে। যারা মানব পাচারে প্ররোচনা, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন বা সহায়তা করে, তাদের তিন থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে দূতাবাস।
দূতাবাস আরও উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশে বিচারিক প্রক্রিয়া প্রায়শই দীর্ঘ হয়। যদি কোনো ব্যক্তিকে মানব পাচারের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে পুলিশি অভিযোগ থেকে আদালতের রায় পর্যন্ত মাস বা বছর লেগে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: গ্লোবাল টাইমস ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস তাদের নাগরিকদের ‘বিদেশি বউ কেনা’বিষয়ক অনলাইন ম্যাচমেকিং স্ক্যাম থেকে বিরত থাকতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দূতাবাস গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এ ধরনের অবৈধ এজেন্সি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এই এজেন্সিগুলো আন্তসীমান্ত ডেট এবং বিয়ের ব্যবস্থা করে দেয় বলে প্রচার করে। চীনা দূতাবাস বলেছে, এ ধরনের কার্যকলাপ ‘অর্থ ও ব্যক্তি উভয়ই হারানোর’ কারণ হতে পারে।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, অবৈধ বিয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে পারেন।
চীনা আইন অনুযায়ী, বিদেশে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া যে কোনো সংস্থা অবৈধ। তবে চীনে ব্যাপকভাবে বিয়ে কমে যাওয়া এবং লিঙ্গবৈষম্যের কারণে চীনা পুরুষদের বিদেশি নারী বিয়ে করার প্রবণতা বেড়েছে। এ নিয়ে অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপন দেয় বিভিন্ন সংস্থা। এই বাণিজ্যও এখন বেশ রমরমা।
গত বছর চীনে বিয়ে নিবন্ধনের সংখ্যা ১৯৮০ সালের পর সর্বনিম্ন ছিল। এ বছর মাত্র ৬১ লাখ বিয়ের সনদ ইস্যু করা হয়েছে। সে হিসাবে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের মতে, চীনে পুরুষের সংখ্যা নারীর চেয়ে প্রায় ৩ কোটি বেশি। এটি কয়েক দশকের কঠোর পরিবার পরিকল্পনা নীতির একটি ফল। লিঙ্গবৈষম্য বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে খুব প্রকট। গ্রামে অবিবাহিত পুরুষদের ‘লেফটওভার মেন’ বা ‘উচ্ছিষ্ট পুরুষ’ বলেও কটাক্ষ করা হয়। এই পুরুষেরা একপর্যায়ে হন্যে হয়ে স্ত্রী খুঁজতে থাকেন। কিন্তু অনেকেরই সামর্থ্যে কুলায় না। কারণ কনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল উপহার প্রত্যাশা করা হয়।
চীনা পুরুষেরা সাধারণত ভিয়েতনাম ও লাওসের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে স্ত্রী খুঁজতে যান। কাজটি করে দেওয়ার জন্য বহু অবৈধ সংস্থা দাঁড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ও নেপালের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকেও তাঁরা টাকার বিনিময়ে স্ত্রী জোগাড় করেন!
বেইজিং নিউজ গত বছর বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট প্রকাশ করেছিল। এসব পোস্টে ২ লাখ ইউয়ানের (২৮ হাজার মার্কিন ডলার) বিনিময়ে লাওসের এক তরুণীকে বিয়ের বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছিল।
এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রায়শই স্ক্যাম হয়। অর্থাৎ, কিছু প্রতারক গোষ্ঠী এসব ভুয়া বিজ্ঞাপন চালিয়ে অর্থকড়ি হাতিয়ে নেয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পরে এরা আর স্ত্রী সরবরাহ করে না!
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদপত্র লিগ্যাল ডেইলির প্রতিবেদন অনুসারে, একজন চীনা ব্যক্তি তিন মাসের জন্য পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ১ লাখ ইউয়ান প্রতারণার শিকার হন। আরেকটি ঘটনায়, একজন পাকিস্তানি নারীকে দালালেরা এক চীনার কাছে বিক্রি করেছিল। ওই নারী পুলিশকে জানান, এক চীনা পুরুষ দালালদের টাকা দিয়েছিলেন। পরে তাঁদের মানব পাচারের অভিযোগে আটক করা হয়।
গত বছরের অক্টোবরে জিয়ামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এ ধরনের তৎপরতার পক্ষে সাফাই গেয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন। তিনি বিয়ে কমে যাওয়া এবং লিঙ্গবৈষম্য কমাতে চীনে বিদেশি বধূ আমদানি করার প্রস্তাব করেছিলেন। অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন তিনি। অনেকে মনে করেন, এতে মানব পাচার এবং নিপীড়ন উৎসাহিত হবে।
ঢাকায় চীনা দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের দণ্ডবিধি এবং মানব পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, মানব পাচার সংগঠিত করার জন্য সর্বনিম্ন সাত বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এমনকি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা (৪ হাজার ১১৬ মার্কিন ডলার) জরিমানা হতে পারে। যারা মানব পাচারে প্ররোচনা, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন বা সহায়তা করে, তাদের তিন থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে দূতাবাস।
দূতাবাস আরও উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশে বিচারিক প্রক্রিয়া প্রায়শই দীর্ঘ হয়। যদি কোনো ব্যক্তিকে মানব পাচারের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে পুলিশি অভিযোগ থেকে আদালতের রায় পর্যন্ত মাস বা বছর লেগে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: গ্লোবাল টাইমস ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২,২৪০ কোটি টাকা) ব্যয় করে ১৬০ টিরও বেশি নজরদারি প্রযুক্তি এবং স্পাইওয়্যার আমদানি ও ব্যবহার করেছে। এসব প্রযুক্তি প্রায়শই অস্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া এবং তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতায় আনা হয়েছে।
১৭ দিন আগেজাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ এক মাস বাড়িয়েছে সরকার। এই কমিশনের মেয়াদ আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে গতকাল সোমবার রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সাত সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ছ
১৮ দিন আগেরাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র মোবাইল অপারেটর টেলিটক এখন ‘গলার কাঁটা’ পর্যায়ে চলে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
১৮ দিন আগেবাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম দিনে বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং তিনটি নোট অব এক্সচেঞ্জ সই হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতিতে পুত্রজায়ায় এই চুক্তিগুলো স্বাক্ষরি
১৮ দিন আগে