ফিচার ডেস্ক, ঢাকা
প্রশান্ত মহাসাগরের কোল ঘেঁষে সূর্যাস্তের আলোয় ঝলমলে এক নির্জন সৈকত। কেবল ঢেউয়ের শব্দ, কয়েকজন সার্ফার আর সমুদ্রে গা ভেজানো একটি কুকুর। মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদরে গেলে এমন চিত্র চোখে পড়বে। প্রকৃতির কোলে এই শান্ত দেশের এল জোন্তে গ্রামে ঘটে গেছে নতুন এক অর্থনৈতিক বিপ্লব। এটি বিশ্বের প্রথম গ্রাম, যেখানে দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে হোটেল বিল পরিশোধ—সবই হয় বিটকয়েনে। তাই স্থানীয়রা এল জোন্তেকে ডাকে বিটকয়েন বিচ নামে।
সৈকতে ডিজিটাল মুদ্রা
গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়বে বিটকয়েনের কমলা রঙের সাইনবোর্ড আর দোকান-হোটেলের গায়ে ‘বিটকয়েন গ্রহণযোগ্য’ স্টিকার। আপনার যা কিছু প্রয়োজন হবে, সবই এই মুদ্রায় কেনা যায়।
এই বিপ্লবের শুরু
২০১৯ সালে অজানা একজন এল জোন্তেতে বিশাল পরিমাণ বিটকয়েন দান করেন। স্থানীয় অর্থনীতিবিদ মাইক পিটারসন ও সমাজকর্মী রোমান মার্টিনেজ ভাবলেন, এই তহবিল দিয়ে গড়ে তোলা যাবে বিটকয়েনভিত্তিক অর্থনীতি। শুরুটা হয়েছিল তরুণদের দিয়ে। নদী-সৈকত পরিষ্কারের কাজের বিনিময়ে তাঁদের মজুরি হিসেবে দেওয়া হয় বিটকয়েন। করোনা মহামারিতে যখন চাকরি হারালেন শত শত মানুষ, তখন এই প্রকল্পই হয়ে ওঠে তাঁদের অন্যতম ভরসা।
এল সালভাদরে বিটকয়েন প্রচলন যেভাবে সম্ভব হলো
পিটারসন ব্যাখ্যা করেছেন বিষয়টি। ২০০১ সাল থেকে আমেরিকান ডলার এল সালভাদরের সরকারি মুদ্রা। নিজস্ব কোনো মুদ্রা না থাকায় বিটকয়েন প্রচলনের জন্য এস জোন্তের পরিবেশ ছিল উন্মুক্ত। আরেকটি বড় কারণ, সেখানকার বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত। বিটকয়েন তাদের জন্য প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক পেমেন্টের দরজা খুলে দেয়।
বিটকয়েন যে জীবন বদলে দিল
২৩ বছর বয়সী ব্রায়ান ফ্লোরেস বেড়ে উঠেছেন এল সালভাদরের এল জোন্তে শহরের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে। বন্ধুদের অনেকে গ্যাং-সহিংসতার কারণে মারা গেছেন কিংবা জেলে রয়েছেন। কিন্তু ব্রায়ান বেছে নিলেন এক ভিন্ন পথ। ২০১৯ সালে বিটকয়েন বিচ প্রকল্পে যুক্ত হয়ে ছোটখাটো কমিউনিটিভিত্তিক কাজের জন্য তিনি প্রথমবার বিটকয়েনে পারিশ্রমিক পান। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বিটকয়েন ও ব্লক চেইনের ব্যবহার শিখতে শুরু করেন ব্রায়ান। আজ তিনি নিজেই একজন প্রশিক্ষক ও আন্তর্জাতিক বক্তা। ভ্রমণ করেছেন আর্জেন্টিনা, স্পেন ও চেক প্রজাতন্ত্রে বিটকয়েন বিষয়ে শেখাতে। সামনে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অংশ নেবেন একটি সম্মেলনে। ব্রায়ান বলেন, ‘বিটকয়েন বিচ আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আগে আমরা শুধু কৃষিকাজ করতাম, এখন আমি বিশ্ব ঘুরে বিটকয়েন শেখাই।’
গ্রাম থেকে দেশে, তারপর…
এল জোন্তের এই সাফল্য দেখে ২০২১ সালে দেশটির তখনকার প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বিটকয়েনকে বৈধ মুদ্রা ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছিলেন, ‘এল জোন্তে প্রমাণ করল, এটা শুধু ধনীদের ব্যবহারের জন্য নয়, বরং সবার জন্য উন্মুক্ত।’ যদিও এ বছর আইএমএফের চাপে সরকার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু এল জোন্তেতে বিটকয়েনের ব্যবহার আজও চলছে জোরেশোরে।
পর্যটন ও প্রযুক্তির যুগলবন্দী
স্থানীয় হোটেলমালিক ও রেস্তোরাঁ কর্মীরা জানান, এখন নিয়মিত পর্যটকেরা বিটকয়েন দিয়ে পেমেন্ট করেন। ২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত ইউএন ট্যুরিজমের তথ্য অনুযায়ী, এল সালভাদরে আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনের হার বেড়েছে ৯০ শতাংশ। দেশজুড়ে সরকারি নিরাপত্তা বাড়ানো, গ্যাং দমন এবং সমুদ্রতীরবর্তী উন্নয়ন এই পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।
পর্যটকদের জন্য টিপস
এল সালভাদরের এল জোন্তে গ্রামে গিয়ে ‘ব্লিঙ্ক বিটকয়েন ওয়ালেট’ অ্যাপ ডাউনলোড করুন। বিটকয়েন কিনে ওয়ালেটে ট্রান্সফার করে নিন। প্রায় সব দোকানই এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য। তবে সতর্কতার জন্য আগে জিজ্ঞাসা করে নিন।
সমুদ্রের পাশে বসে মোবাইলে বিটকয়েন দিয়ে কিছু কেনার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো। কিন্তু এল জোন্তেতে এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা। এটি বদলে দিয়েছে অনেক তরুণের জীবন, একটি দেশের অর্থনীতি। এল সালভাদরের এল জোন্তে দেখিয়েছে, প্রযুক্তি শুধু বড় শহর বা ধনীদের বিষয় নয়। এটি হতে পারে গ্রাম উন্নয়নের হাতিয়ারও।
সূত্র: বিবিসি
ছবি: এভরিথিং এল সালভাদর
প্রশান্ত মহাসাগরের কোল ঘেঁষে সূর্যাস্তের আলোয় ঝলমলে এক নির্জন সৈকত। কেবল ঢেউয়ের শব্দ, কয়েকজন সার্ফার আর সমুদ্রে গা ভেজানো একটি কুকুর। মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদরে গেলে এমন চিত্র চোখে পড়বে। প্রকৃতির কোলে এই শান্ত দেশের এল জোন্তে গ্রামে ঘটে গেছে নতুন এক অর্থনৈতিক বিপ্লব। এটি বিশ্বের প্রথম গ্রাম, যেখানে দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে হোটেল বিল পরিশোধ—সবই হয় বিটকয়েনে। তাই স্থানীয়রা এল জোন্তেকে ডাকে বিটকয়েন বিচ নামে।
সৈকতে ডিজিটাল মুদ্রা
গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়বে বিটকয়েনের কমলা রঙের সাইনবোর্ড আর দোকান-হোটেলের গায়ে ‘বিটকয়েন গ্রহণযোগ্য’ স্টিকার। আপনার যা কিছু প্রয়োজন হবে, সবই এই মুদ্রায় কেনা যায়।
এই বিপ্লবের শুরু
২০১৯ সালে অজানা একজন এল জোন্তেতে বিশাল পরিমাণ বিটকয়েন দান করেন। স্থানীয় অর্থনীতিবিদ মাইক পিটারসন ও সমাজকর্মী রোমান মার্টিনেজ ভাবলেন, এই তহবিল দিয়ে গড়ে তোলা যাবে বিটকয়েনভিত্তিক অর্থনীতি। শুরুটা হয়েছিল তরুণদের দিয়ে। নদী-সৈকত পরিষ্কারের কাজের বিনিময়ে তাঁদের মজুরি হিসেবে দেওয়া হয় বিটকয়েন। করোনা মহামারিতে যখন চাকরি হারালেন শত শত মানুষ, তখন এই প্রকল্পই হয়ে ওঠে তাঁদের অন্যতম ভরসা।
এল সালভাদরে বিটকয়েন প্রচলন যেভাবে সম্ভব হলো
পিটারসন ব্যাখ্যা করেছেন বিষয়টি। ২০০১ সাল থেকে আমেরিকান ডলার এল সালভাদরের সরকারি মুদ্রা। নিজস্ব কোনো মুদ্রা না থাকায় বিটকয়েন প্রচলনের জন্য এস জোন্তের পরিবেশ ছিল উন্মুক্ত। আরেকটি বড় কারণ, সেখানকার বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত। বিটকয়েন তাদের জন্য প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক পেমেন্টের দরজা খুলে দেয়।
বিটকয়েন যে জীবন বদলে দিল
২৩ বছর বয়সী ব্রায়ান ফ্লোরেস বেড়ে উঠেছেন এল সালভাদরের এল জোন্তে শহরের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে। বন্ধুদের অনেকে গ্যাং-সহিংসতার কারণে মারা গেছেন কিংবা জেলে রয়েছেন। কিন্তু ব্রায়ান বেছে নিলেন এক ভিন্ন পথ। ২০১৯ সালে বিটকয়েন বিচ প্রকল্পে যুক্ত হয়ে ছোটখাটো কমিউনিটিভিত্তিক কাজের জন্য তিনি প্রথমবার বিটকয়েনে পারিশ্রমিক পান। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বিটকয়েন ও ব্লক চেইনের ব্যবহার শিখতে শুরু করেন ব্রায়ান। আজ তিনি নিজেই একজন প্রশিক্ষক ও আন্তর্জাতিক বক্তা। ভ্রমণ করেছেন আর্জেন্টিনা, স্পেন ও চেক প্রজাতন্ত্রে বিটকয়েন বিষয়ে শেখাতে। সামনে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অংশ নেবেন একটি সম্মেলনে। ব্রায়ান বলেন, ‘বিটকয়েন বিচ আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আগে আমরা শুধু কৃষিকাজ করতাম, এখন আমি বিশ্ব ঘুরে বিটকয়েন শেখাই।’
গ্রাম থেকে দেশে, তারপর…
এল জোন্তের এই সাফল্য দেখে ২০২১ সালে দেশটির তখনকার প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বিটকয়েনকে বৈধ মুদ্রা ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছিলেন, ‘এল জোন্তে প্রমাণ করল, এটা শুধু ধনীদের ব্যবহারের জন্য নয়, বরং সবার জন্য উন্মুক্ত।’ যদিও এ বছর আইএমএফের চাপে সরকার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু এল জোন্তেতে বিটকয়েনের ব্যবহার আজও চলছে জোরেশোরে।
পর্যটন ও প্রযুক্তির যুগলবন্দী
স্থানীয় হোটেলমালিক ও রেস্তোরাঁ কর্মীরা জানান, এখন নিয়মিত পর্যটকেরা বিটকয়েন দিয়ে পেমেন্ট করেন। ২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত ইউএন ট্যুরিজমের তথ্য অনুযায়ী, এল সালভাদরে আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনের হার বেড়েছে ৯০ শতাংশ। দেশজুড়ে সরকারি নিরাপত্তা বাড়ানো, গ্যাং দমন এবং সমুদ্রতীরবর্তী উন্নয়ন এই পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।
পর্যটকদের জন্য টিপস
এল সালভাদরের এল জোন্তে গ্রামে গিয়ে ‘ব্লিঙ্ক বিটকয়েন ওয়ালেট’ অ্যাপ ডাউনলোড করুন। বিটকয়েন কিনে ওয়ালেটে ট্রান্সফার করে নিন। প্রায় সব দোকানই এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য। তবে সতর্কতার জন্য আগে জিজ্ঞাসা করে নিন।
সমুদ্রের পাশে বসে মোবাইলে বিটকয়েন দিয়ে কিছু কেনার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো। কিন্তু এল জোন্তেতে এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা। এটি বদলে দিয়েছে অনেক তরুণের জীবন, একটি দেশের অর্থনীতি। এল সালভাদরের এল জোন্তে দেখিয়েছে, প্রযুক্তি শুধু বড় শহর বা ধনীদের বিষয় নয়। এটি হতে পারে গ্রাম উন্নয়নের হাতিয়ারও।
সূত্র: বিবিসি
ছবি: এভরিথিং এল সালভাদর
রান্নায় চিনি ব্যবহারে খাবারের রঙ ও স্বাদ দুটোই বাড়ে। বিশ্বাস না হলে গরুর মাংসে চিনি ব্যবহার করেই দেখুন। তবে শুধু চিনি ব্যবহার করলেই হবে না, কীভাবে রান্না করছেন তার ওপরও নির্ভর করবে স্বাদ কেমন হবে।
১৭ দিন আগেশ্রাবণের শেষেই যদি থাকে রোদের এত তাপ, তাহলে আসছে শরতে কী হবে, বোঝাই যাচ্ছে। সকালে স্নান সেরে সেজেগুজে বের হয়েও নিস্তার নেই। আধা ঘণ্টার মধ্য়ে ঘেমে-নেয়ে নাজেহাল। রোদের তাপে ত্বকের অবস্থা খারাপ। ব্রণ হওয়ার প্রবণতাও এ ঋতুতে বেড়ে যায়। এ সময় ত্বক ঠান্ডা রাখতে পারলে ব্রণ ও র্যাশ হওয়ার আশঙ্কা কমে...
১৭ দিন আগে‘ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস করো’। ঋত্বিক ঘটকের এই কথা শোনেনি, এমন মানুষ কি আছে। কোথাও না কোথাও, কোনো না কোনোভাবে এই উক্তি আমরা বহুবার শুনেছি। খুব ইতিবাচক কথা নিঃসন্দেহে। তবে এই ‘ভাবা’ বা ‘ভাবনা’ কিংবা ‘চিন্তা’ শব্দটির উল্টো দিকে আছে ‘দুর্ভাবনা’ শব্দটি।
১৮ দিন আগেরোমকূপে ত্বক নষ্ট! সেই সঙ্গে নষ্ট শান্তি। বহু কিছু করেও বাগে আনা যাচ্ছে না সেগুলো; বরং ধীরে ধীরে সংখ্যা বেড়ে চলেছে। একটু ধৈর্য ধরে বসুন। এরও প্রতিকার আছে। ঘরোয়া উপায়ে ধীরে ধীরে পোরস বা রোমকূপ বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।
১৮ দিন আগে