ফিচার ডেস্ক, ঢাকা
টিভি, সিনেমা বা বড় কোনো রেস্তোরাঁয় গেলে আমাদের চোখে পড়ে শেফের বিশেষ পোশাক। আর সেই পোশাকের মধ্যে বেশি নজর কাড়ে শেফের মাথার উঁচু সাদা টুপি। এই লম্বা টুপিটাই যেন একজন শেফের আসল পরিচয়।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, শেফরা কেন এমন লম্বা টুপি পরেন? আর এই টুপিগুলো এত লম্বাই-বা হয় কেন? এটি শুধু দেখানোর জন্য নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শতাব্দীপ্রাচীন এক ইতিহাস।
টুপি পরার মূল কারণ
প্রথম ও প্রধান কারণ স্বাস্থ্যবিধি। রান্নার সময় যেন চুল বা ঘাম খাবারে না পড়ে, সে জন্য এই টুপি ব্যবহৃত হয়। তবে এখানেই শেষ নয়। টুপির উচ্চতা, ডিজাইন ও রং একজন শেফের অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব ও অবস্থানও নির্দেশ করে। অনেক রেস্টুরেন্টে শুধু হেড শেফ ও স্যু শেফ উঁচু টুপি পরেন। রান্নাঘরে কে কতটা সিনিয়র, তা সহজে বুঝে নেওয়া যায় টুপির উচ্চতা দেখে।
ইতিহাসের পাতায় শেফের টুপি
শেফদের টুপির ইতিহাস বহু পুরোনো। বলা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতকে অ্যাসিরীয় রাজা আশুরবানিপাল তাঁর রান্নার লোকদের আলাদা টুপি পরতে বাধ্য করেছিলেন। কারণ ছিল, যেন পাচকদের সহজে চেনা যায় এবং কেউ রাজাকে বিষ খেয়ে পার পেয়ে যেতে না পারে। এমনকি ইংল্যান্ডের রাজা হেনরি অষ্টম একবার খাবারে চুল পেয়ে শেফের শিরশ্ছেদ করেছিলেন। এরপর থেকে শেফরা টুপি পরা শুরু করেন আরও নিয়মতান্ত্রিকভাবে। আধুনিককালে উঁচু টুপির প্রচলন শুরু করেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি শেফ মারি আন্তোয়ান ক্যারেম। তিনি রান্নাঘরকে সেনাবাহিনীর মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। এর প্রতিফলন পড়ে ইউনিফর্মেও। পরে বিখ্যাত শেফ অগুস্ত এসকোফিয়ে এই ধারণাকে পেশাদার রূপ দেন। তিনি টুপির উচ্চতাকে পদমর্যাদার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
টুপির উচ্চতা কতটা
সাধারণভাবে শেফ টুপির উচ্চতা ৯ থেকে ১২ ইঞ্চি। তবে ক্যারেম নিজে ১৮ ইঞ্চি উঁচু টুপি পরতেন, যেটা কার্ডবোর্ড দিয়ে শক্ত করা হতো। তবে সবচেয়ে উঁচু শেফ টুপির রেকর্ড হলো ১৫ ফুট ৯ ইঞ্চি। এটি পরেছিলেন মার্কিন শেফ ওডিলন ওজারে। বলা বাহুল্য, ২০১৮ সালে এটি গিনেস রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়।
টুপির কুঁচির রহস্য
টুপি ঘিরে আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয় হলো এর ভাঁজ বা প্লিট। বলা হয়, এক শটা ভাঁজ মানে শেফ এক শ রকমভাবে ডিম রান্না করতে পারেন। যদিও এটা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়, তবু এই রেওয়াজ এখনো চালু আছে। আর ভাঁজগুলো টুপির ভেতর বাতাস চলাচলেও সাহায্য করে, ফলে গরম রান্নাঘরেও মাথা ঠান্ডা থাকে।
বর্তমান যুগে রান্নাঘরে টুপির ধরন
বর্তমানে সব রান্নাঘরে আর ঐতিহ্যবাহী উঁচু টুপি দেখা যায় না। অনেকে ব্যবহার করেন খাটো স্কাল ক্যাপ, কটন বিনি, বেকারের ফ্লফি হ্যাট, এমনকি সাধারণ বেসবল ক্যাপও। অনেক শেফ আজকাল তাদের সংস্কৃতি বা ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলেন হেড স্কার্ফ দিয়ে।
‘আমি এমন টুপি পরি; যা সংস্কৃতিগত, আরামদায়ক এবং আমার পরিচয় বহন করে।’ —মারিসেল জেন্টিলে, শেফ, নিউ জার্সি।
কিছু আধুনিক কিচেনে আবার ব্যবহৃত হয় কাগজের তৈরি পেপার টোক, যা হালকা, স্বাস্থ্যসম্মত এবং সহজে পরিধানযোগ্য।
টুপির রং কেন সাদা
সাদা রং পবিত্রতা আর পরিচ্ছন্নতার প্রতীক। টুপিতে সামান্য দাগও স্পষ্ট দেখা যায়, তাই শেফরা সব সময় সচেতন থাকেন পরিপাটি থাকার ব্যাপারে। তবে এখন অনেক কিচেনে কালো বা গাঢ় রঙের টুপিও দেখা যায়; বিশেষ করে খোলা রান্নাঘরে, যাতে দাগ সহজে লুকানো যায়।
রান্নাঘরে টুপি কি বাধ্যতামূলক
হ্যাঁ, বেশির ভাগ বাণিজ্যিক রান্নাঘরে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী চুল ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক। টুপির ধরন যেমনই হোক, মূল উদ্দেশ্য একটাই—খাবারে যেন কোনোভাবে চুল না পড়ে।
টুপির উচ্চতা যা-ই হোক না কেন, আসল বিষয় হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং রান্না ও পরিবেশনের প্রতি যত্ন ও ভালোবাসা। শেফের টুপি কেবল একটি পোশাকের অংশ নয়, এটি সম্মান, ইতিহাস ও পেশাদারির এক ঐতিহাসিক প্রতীক।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
টিভি, সিনেমা বা বড় কোনো রেস্তোরাঁয় গেলে আমাদের চোখে পড়ে শেফের বিশেষ পোশাক। আর সেই পোশাকের মধ্যে বেশি নজর কাড়ে শেফের মাথার উঁচু সাদা টুপি। এই লম্বা টুপিটাই যেন একজন শেফের আসল পরিচয়।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, শেফরা কেন এমন লম্বা টুপি পরেন? আর এই টুপিগুলো এত লম্বাই-বা হয় কেন? এটি শুধু দেখানোর জন্য নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শতাব্দীপ্রাচীন এক ইতিহাস।
টুপি পরার মূল কারণ
প্রথম ও প্রধান কারণ স্বাস্থ্যবিধি। রান্নার সময় যেন চুল বা ঘাম খাবারে না পড়ে, সে জন্য এই টুপি ব্যবহৃত হয়। তবে এখানেই শেষ নয়। টুপির উচ্চতা, ডিজাইন ও রং একজন শেফের অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব ও অবস্থানও নির্দেশ করে। অনেক রেস্টুরেন্টে শুধু হেড শেফ ও স্যু শেফ উঁচু টুপি পরেন। রান্নাঘরে কে কতটা সিনিয়র, তা সহজে বুঝে নেওয়া যায় টুপির উচ্চতা দেখে।
ইতিহাসের পাতায় শেফের টুপি
শেফদের টুপির ইতিহাস বহু পুরোনো। বলা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতকে অ্যাসিরীয় রাজা আশুরবানিপাল তাঁর রান্নার লোকদের আলাদা টুপি পরতে বাধ্য করেছিলেন। কারণ ছিল, যেন পাচকদের সহজে চেনা যায় এবং কেউ রাজাকে বিষ খেয়ে পার পেয়ে যেতে না পারে। এমনকি ইংল্যান্ডের রাজা হেনরি অষ্টম একবার খাবারে চুল পেয়ে শেফের শিরশ্ছেদ করেছিলেন। এরপর থেকে শেফরা টুপি পরা শুরু করেন আরও নিয়মতান্ত্রিকভাবে। আধুনিককালে উঁচু টুপির প্রচলন শুরু করেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি শেফ মারি আন্তোয়ান ক্যারেম। তিনি রান্নাঘরকে সেনাবাহিনীর মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। এর প্রতিফলন পড়ে ইউনিফর্মেও। পরে বিখ্যাত শেফ অগুস্ত এসকোফিয়ে এই ধারণাকে পেশাদার রূপ দেন। তিনি টুপির উচ্চতাকে পদমর্যাদার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
টুপির উচ্চতা কতটা
সাধারণভাবে শেফ টুপির উচ্চতা ৯ থেকে ১২ ইঞ্চি। তবে ক্যারেম নিজে ১৮ ইঞ্চি উঁচু টুপি পরতেন, যেটা কার্ডবোর্ড দিয়ে শক্ত করা হতো। তবে সবচেয়ে উঁচু শেফ টুপির রেকর্ড হলো ১৫ ফুট ৯ ইঞ্চি। এটি পরেছিলেন মার্কিন শেফ ওডিলন ওজারে। বলা বাহুল্য, ২০১৮ সালে এটি গিনেস রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়।
টুপির কুঁচির রহস্য
টুপি ঘিরে আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয় হলো এর ভাঁজ বা প্লিট। বলা হয়, এক শটা ভাঁজ মানে শেফ এক শ রকমভাবে ডিম রান্না করতে পারেন। যদিও এটা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়, তবু এই রেওয়াজ এখনো চালু আছে। আর ভাঁজগুলো টুপির ভেতর বাতাস চলাচলেও সাহায্য করে, ফলে গরম রান্নাঘরেও মাথা ঠান্ডা থাকে।
বর্তমান যুগে রান্নাঘরে টুপির ধরন
বর্তমানে সব রান্নাঘরে আর ঐতিহ্যবাহী উঁচু টুপি দেখা যায় না। অনেকে ব্যবহার করেন খাটো স্কাল ক্যাপ, কটন বিনি, বেকারের ফ্লফি হ্যাট, এমনকি সাধারণ বেসবল ক্যাপও। অনেক শেফ আজকাল তাদের সংস্কৃতি বা ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলেন হেড স্কার্ফ দিয়ে।
‘আমি এমন টুপি পরি; যা সংস্কৃতিগত, আরামদায়ক এবং আমার পরিচয় বহন করে।’ —মারিসেল জেন্টিলে, শেফ, নিউ জার্সি।
কিছু আধুনিক কিচেনে আবার ব্যবহৃত হয় কাগজের তৈরি পেপার টোক, যা হালকা, স্বাস্থ্যসম্মত এবং সহজে পরিধানযোগ্য।
টুপির রং কেন সাদা
সাদা রং পবিত্রতা আর পরিচ্ছন্নতার প্রতীক। টুপিতে সামান্য দাগও স্পষ্ট দেখা যায়, তাই শেফরা সব সময় সচেতন থাকেন পরিপাটি থাকার ব্যাপারে। তবে এখন অনেক কিচেনে কালো বা গাঢ় রঙের টুপিও দেখা যায়; বিশেষ করে খোলা রান্নাঘরে, যাতে দাগ সহজে লুকানো যায়।
রান্নাঘরে টুপি কি বাধ্যতামূলক
হ্যাঁ, বেশির ভাগ বাণিজ্যিক রান্নাঘরে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী চুল ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক। টুপির ধরন যেমনই হোক, মূল উদ্দেশ্য একটাই—খাবারে যেন কোনোভাবে চুল না পড়ে।
টুপির উচ্চতা যা-ই হোক না কেন, আসল বিষয় হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং রান্না ও পরিবেশনের প্রতি যত্ন ও ভালোবাসা। শেফের টুপি কেবল একটি পোশাকের অংশ নয়, এটি সম্মান, ইতিহাস ও পেশাদারির এক ঐতিহাসিক প্রতীক।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
রান্নায় চিনি ব্যবহারে খাবারের রঙ ও স্বাদ দুটোই বাড়ে। বিশ্বাস না হলে গরুর মাংসে চিনি ব্যবহার করেই দেখুন। তবে শুধু চিনি ব্যবহার করলেই হবে না, কীভাবে রান্না করছেন তার ওপরও নির্ভর করবে স্বাদ কেমন হবে।
১৭ দিন আগেশ্রাবণের শেষেই যদি থাকে রোদের এত তাপ, তাহলে আসছে শরতে কী হবে, বোঝাই যাচ্ছে। সকালে স্নান সেরে সেজেগুজে বের হয়েও নিস্তার নেই। আধা ঘণ্টার মধ্য়ে ঘেমে-নেয়ে নাজেহাল। রোদের তাপে ত্বকের অবস্থা খারাপ। ব্রণ হওয়ার প্রবণতাও এ ঋতুতে বেড়ে যায়। এ সময় ত্বক ঠান্ডা রাখতে পারলে ব্রণ ও র্যাশ হওয়ার আশঙ্কা কমে...
১৭ দিন আগে‘ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস করো’। ঋত্বিক ঘটকের এই কথা শোনেনি, এমন মানুষ কি আছে। কোথাও না কোথাও, কোনো না কোনোভাবে এই উক্তি আমরা বহুবার শুনেছি। খুব ইতিবাচক কথা নিঃসন্দেহে। তবে এই ‘ভাবা’ বা ‘ভাবনা’ কিংবা ‘চিন্তা’ শব্দটির উল্টো দিকে আছে ‘দুর্ভাবনা’ শব্দটি।
১৮ দিন আগেরোমকূপে ত্বক নষ্ট! সেই সঙ্গে নষ্ট শান্তি। বহু কিছু করেও বাগে আনা যাচ্ছে না সেগুলো; বরং ধীরে ধীরে সংখ্যা বেড়ে চলেছে। একটু ধৈর্য ধরে বসুন। এরও প্রতিকার আছে। ঘরোয়া উপায়ে ধীরে ধীরে পোরস বা রোমকূপ বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।
১৮ দিন আগে