ফিচার ডেস্ক
আপনার সন্তান কি কথা শুনতে চায় না? অল্পতেই রেগে গিয়ে চিৎকার বা ভাঙচুর করে? এমনটা হলে, তার স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল-টেলিভিশন দেখার সময় নিয়ে আপনাকে হয়তো নতুন করে ভাবতে হবে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নাল ‘সাইকোলজিক্যাল বুলেটিন’-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রায় ১১৭টি গবেষণার একটি সমন্বিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিশুরা যত বেশি সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাটায়, বয়সের তুলনায় তাদের আচরণ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তত কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই গবেষণা সাড়ে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর করা হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, এর ফলে শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, অতিরিক্ত চঞ্চলতা এবং আগ্রাসী মনোভাবের মতো নানা ধরনের মানসিক ও আচরণগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই প্রভাব অল্প হলেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
স্ক্রিন টাইমের নিরাপদ সীমা
- ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ভিডিও চ্যাট ছাড়া কোনো স্ক্রিন টাইমই উচিত নয়।
- ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য দিনে এক ঘণ্টার বেশি নয়।
- এর চেয়ে বেশি বয়সী শিশুদের জন্য দিনে দুই ঘণ্টার বেশি নয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব শিশু ভিডিও গেমে বেশি সময় ব্যয় করে, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া ৫ বছরের কম বয়সীদের তুলনায় ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে আচরণগত সমস্যা তৈরি হওয়ার প্রবণতা বেশি।
সমস্যা কখনো কারণ এবং কখনো লক্ষণ
এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্ক্রিন টাইমকে শুধু সমস্যার কারণ হিসেবেই নয়, এর সঙ্গে একে সমস্যার লক্ষণ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণার প্রধান লেখক, অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী প্রভাষক রবার্তা পিরেস ভাসকোনসেলোস বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে শিশুরা আগে থেকেই মানসিকভাবে কষ্টে আছে, তারা সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে বা সাময়িক স্বস্তির জন্য স্ক্রিনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এটি অল্প সময়ের জন্য তাদের ভালো অনুভূতি দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে তাদের সেই মানসিক সমস্যার চক্রে আরও গভীরভাবে আটকে ফেলে।’ অর্থাৎ, শিশু যখন অতিরিক্ত স্ক্রিনে আসক্ত, তখন বুঝতে হবে, তার কোনো মানসিক সমস্যাও থাকতে পারে।
অভিভাবকদের করণীয়
এই গবেষণা অভিভাবকদের জন্য কিছু সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়, যা সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে।
শিশুকে শান্ত রাখতে স্ক্রিন ব্যবহার করবেন না: অনেক অভিভাবক শিশুকে শান্ত রাখার জন্য বা নিজেদের কাজে মনোযোগ দেওয়ার জন্য তাদের হাতে মোবাইল বা ট্যাব তুলে দেন। গবেষক ভাসকোনসেলোস সতর্ক করে বলেন, ‘এটি সাময়িকভাবে আপনাকে স্বস্তি দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে শিশুর জন্য ক্ষতিকর।’ এর ফলে শিশুরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না শিখে বিনোদনের জন্য স্ক্রিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
মানসিক দিকে নজর: খেয়াল করুন, আপনার সন্তান কি কোনো সমস্যায় পড়লে বা মন খারাপ হলেই স্ক্রিনের দিকে ঝুঁকছে? এমনটা হলে, মূল সমস্যা স্ক্রিন নয়, এটি হতে পারে তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন। তার সঙ্গে কথা বলুন, তার সমস্যার কথা শুনুন এবং তাকে মানসিক সাপোর্ট দিন। প্রয়োজনে স্কুল কাউন্সেলর বা শিশু মনোবিদের সাহায্য নিন।
ভিডিও গেমের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন: গবেষণায় ভিডিও গেমের ঝুঁকিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইন গেমগুলো সামাজিক মাধ্যমের মতো কাজ করে এবং খেলার সঙ্গীদের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য শিশুরা দীর্ঘক্ষণ ধরে খেলতে বাধ্য হয়। এর ফলে তাদের ঘুম, পড়াশোনা এবং সামাজিক মেলামেশা ব্যাহত হয়। তাই ভিডিও গেমের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকা জরুরি।
নিয়ম তৈরি করুন এবং ‘না’ বলতে শিখুন: সন্তানের স্ক্রিন টাইমের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করুন এবং তা কঠোরভাবে মেনে চলুন। বেশির ভাগ ডিভাইসেই এখন ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ অপশন থাকে, যা ব্যবহার করে আপনি সময়সীমা ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। সন্তানের ভালোর জন্য অনেক সময় তাদের পছন্দের বিরুদ্ধে গিয়ে ‘না’ বলতে হতে পারে। এতে তারা হয়তো রাগ বা জেদ করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী হবে।
সবশেষে বলা যায়, শিশুর জেদ, রাগ বা কান্নাকাটি হয়তো স্ক্রিন আসক্তির একটি কারণ, আবার কখনো তা অন্য কোনো মানসিক সমস্যার লক্ষণ। কারণ যা-ই হোক, অভিভাবক হিসেবে আপনার দৃঢ়তাই পারে আপনার সন্তানকে একটি সুস্থ ও সুন্দর শৈশব উপহার দিতে।
সূত্র: সিএনএন
আপনার সন্তান কি কথা শুনতে চায় না? অল্পতেই রেগে গিয়ে চিৎকার বা ভাঙচুর করে? এমনটা হলে, তার স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল-টেলিভিশন দেখার সময় নিয়ে আপনাকে হয়তো নতুন করে ভাবতে হবে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নাল ‘সাইকোলজিক্যাল বুলেটিন’-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রায় ১১৭টি গবেষণার একটি সমন্বিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিশুরা যত বেশি সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাটায়, বয়সের তুলনায় তাদের আচরণ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তত কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই গবেষণা সাড়ে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর করা হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, এর ফলে শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, অতিরিক্ত চঞ্চলতা এবং আগ্রাসী মনোভাবের মতো নানা ধরনের মানসিক ও আচরণগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই প্রভাব অল্প হলেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
স্ক্রিন টাইমের নিরাপদ সীমা
- ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ভিডিও চ্যাট ছাড়া কোনো স্ক্রিন টাইমই উচিত নয়।
- ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য দিনে এক ঘণ্টার বেশি নয়।
- এর চেয়ে বেশি বয়সী শিশুদের জন্য দিনে দুই ঘণ্টার বেশি নয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব শিশু ভিডিও গেমে বেশি সময় ব্যয় করে, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া ৫ বছরের কম বয়সীদের তুলনায় ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে আচরণগত সমস্যা তৈরি হওয়ার প্রবণতা বেশি।
সমস্যা কখনো কারণ এবং কখনো লক্ষণ
এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্ক্রিন টাইমকে শুধু সমস্যার কারণ হিসেবেই নয়, এর সঙ্গে একে সমস্যার লক্ষণ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণার প্রধান লেখক, অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী প্রভাষক রবার্তা পিরেস ভাসকোনসেলোস বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে শিশুরা আগে থেকেই মানসিকভাবে কষ্টে আছে, তারা সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে বা সাময়িক স্বস্তির জন্য স্ক্রিনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এটি অল্প সময়ের জন্য তাদের ভালো অনুভূতি দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে তাদের সেই মানসিক সমস্যার চক্রে আরও গভীরভাবে আটকে ফেলে।’ অর্থাৎ, শিশু যখন অতিরিক্ত স্ক্রিনে আসক্ত, তখন বুঝতে হবে, তার কোনো মানসিক সমস্যাও থাকতে পারে।
অভিভাবকদের করণীয়
এই গবেষণা অভিভাবকদের জন্য কিছু সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়, যা সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে।
শিশুকে শান্ত রাখতে স্ক্রিন ব্যবহার করবেন না: অনেক অভিভাবক শিশুকে শান্ত রাখার জন্য বা নিজেদের কাজে মনোযোগ দেওয়ার জন্য তাদের হাতে মোবাইল বা ট্যাব তুলে দেন। গবেষক ভাসকোনসেলোস সতর্ক করে বলেন, ‘এটি সাময়িকভাবে আপনাকে স্বস্তি দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে শিশুর জন্য ক্ষতিকর।’ এর ফলে শিশুরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না শিখে বিনোদনের জন্য স্ক্রিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
মানসিক দিকে নজর: খেয়াল করুন, আপনার সন্তান কি কোনো সমস্যায় পড়লে বা মন খারাপ হলেই স্ক্রিনের দিকে ঝুঁকছে? এমনটা হলে, মূল সমস্যা স্ক্রিন নয়, এটি হতে পারে তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন। তার সঙ্গে কথা বলুন, তার সমস্যার কথা শুনুন এবং তাকে মানসিক সাপোর্ট দিন। প্রয়োজনে স্কুল কাউন্সেলর বা শিশু মনোবিদের সাহায্য নিন।
ভিডিও গেমের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন: গবেষণায় ভিডিও গেমের ঝুঁকিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইন গেমগুলো সামাজিক মাধ্যমের মতো কাজ করে এবং খেলার সঙ্গীদের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য শিশুরা দীর্ঘক্ষণ ধরে খেলতে বাধ্য হয়। এর ফলে তাদের ঘুম, পড়াশোনা এবং সামাজিক মেলামেশা ব্যাহত হয়। তাই ভিডিও গেমের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকা জরুরি।
নিয়ম তৈরি করুন এবং ‘না’ বলতে শিখুন: সন্তানের স্ক্রিন টাইমের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করুন এবং তা কঠোরভাবে মেনে চলুন। বেশির ভাগ ডিভাইসেই এখন ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ অপশন থাকে, যা ব্যবহার করে আপনি সময়সীমা ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। সন্তানের ভালোর জন্য অনেক সময় তাদের পছন্দের বিরুদ্ধে গিয়ে ‘না’ বলতে হতে পারে। এতে তারা হয়তো রাগ বা জেদ করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী হবে।
সবশেষে বলা যায়, শিশুর জেদ, রাগ বা কান্নাকাটি হয়তো স্ক্রিন আসক্তির একটি কারণ, আবার কখনো তা অন্য কোনো মানসিক সমস্যার লক্ষণ। কারণ যা-ই হোক, অভিভাবক হিসেবে আপনার দৃঢ়তাই পারে আপনার সন্তানকে একটি সুস্থ ও সুন্দর শৈশব উপহার দিতে।
সূত্র: সিএনএন
রান্নায় চিনি ব্যবহারে খাবারের রঙ ও স্বাদ দুটোই বাড়ে। বিশ্বাস না হলে গরুর মাংসে চিনি ব্যবহার করেই দেখুন। তবে শুধু চিনি ব্যবহার করলেই হবে না, কীভাবে রান্না করছেন তার ওপরও নির্ভর করবে স্বাদ কেমন হবে।
১৭ দিন আগেশ্রাবণের শেষেই যদি থাকে রোদের এত তাপ, তাহলে আসছে শরতে কী হবে, বোঝাই যাচ্ছে। সকালে স্নান সেরে সেজেগুজে বের হয়েও নিস্তার নেই। আধা ঘণ্টার মধ্য়ে ঘেমে-নেয়ে নাজেহাল। রোদের তাপে ত্বকের অবস্থা খারাপ। ব্রণ হওয়ার প্রবণতাও এ ঋতুতে বেড়ে যায়। এ সময় ত্বক ঠান্ডা রাখতে পারলে ব্রণ ও র্যাশ হওয়ার আশঙ্কা কমে...
১৭ দিন আগে‘ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস করো’। ঋত্বিক ঘটকের এই কথা শোনেনি, এমন মানুষ কি আছে। কোথাও না কোথাও, কোনো না কোনোভাবে এই উক্তি আমরা বহুবার শুনেছি। খুব ইতিবাচক কথা নিঃসন্দেহে। তবে এই ‘ভাবা’ বা ‘ভাবনা’ কিংবা ‘চিন্তা’ শব্দটির উল্টো দিকে আছে ‘দুর্ভাবনা’ শব্দটি।
১৮ দিন আগেরোমকূপে ত্বক নষ্ট! সেই সঙ্গে নষ্ট শান্তি। বহু কিছু করেও বাগে আনা যাচ্ছে না সেগুলো; বরং ধীরে ধীরে সংখ্যা বেড়ে চলেছে। একটু ধৈর্য ধরে বসুন। এরও প্রতিকার আছে। ঘরোয়া উপায়ে ধীরে ধীরে পোরস বা রোমকূপ বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।
১৮ দিন আগে