ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ। দেখলেন আর দুই দিন পর গুরুত্বপূর্ণ এক প্রেজেন্টেশন, যার ওপর নির্ভর করছে অফিসের প্রমোশন। এখনই কাজ না শুরু করলে সঠিক সময়ে কাজ শেষ হবে না। কীভাবে কী করা যায়, এই চিন্তা মাথায় নিয়ে বসলেন কাজ করতে। কাজে চোখ বুলিয়ে মানসিক চাপ যেন আরও বেড়ে গেল! এ অবস্থায় মনে হলো, একটা সিনেমা দেখে আয়েশ করে কাজে বসা যাক। আরও তো দুই দিন সময় হাতে আছে।
এভাবেই আমাদের অনেক কাজ পিছিয়ে যায়। সময় যত ঘনিয়ে আসে, তত চাপও বাড়তে থাকে। শেষ মুহূর্তের চাপে কাজের মান যায় কমে। অনেক সময় সেই কাজটিই আর করা হয়ে ওঠে না।
আজকে থাক, কালকে করব—এটি যদি অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে এক ভয়াবহ ভবিষ্যৎই অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। কারণ, কাজে গড়িমসি করা আপনাকে পিছিয়ে দেবে সবক্ষেত্রেই।
কাজে গড়িমসির অভ্যাস যদি পাল্টাতে চান তাহলে আপনার জন্য কিছু কৌশল—
১. কাজকে ভাগ করে নিন ছোট ছোট অংশে
কঠিন বা বিশেষ কাজগুলো নিয়ে যখন আমরা মানসিক চাপে থাকি তখনই মনে ভয় তৈরি হয়, যা কাজ শুরু করতে দেরি করিয়ে দেয়। দুবাইয়ের সুস্থতা বিষয়ক কোচ ও ব্যবসায়িক পরামর্শক কায়লা জ্যাকসন বলেন, ‘আমরা প্রধানত কাজগুলোকে খুব বেশি জটিল ও চাপযুক্ত মনে করি বলে কাজে বিলম্ব হয় বা গড়িমসি করতে থাকি। কোনো কাজ খুব বড় বা জটিল মনে হলেই এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।’
কায়লা পরামর্শ দেন, কাজগুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিতে। তিনি বলেন, ‘যেমন, পুরো একটি প্রতিবেদন এক বসায় লিখে ফেলার চিন্তা না করে ভাগ করে নিন কোন অংশটি আগে লেখা যায়। শুরুতে কেবল ভূমিকা লেখার দিকে মনোযোগ দিন। এভাবে এগোলে মানসিক চাপ কমে এবং আপনার কাজ শুরু করা সহজ হয়ে যায়।’
২. টু মিনিট রুল
কোনো কাজ মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে করা সম্ভব হলে সেটি আর ফেলে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে করে ফেলুন। এতে ছোট কাজগুলোর চাপ কমবে। যেমন—কোনো ই–মেইলের উত্তর দেওয়া বাকি থাকলে বা কাজের টেবিল গুছিয়ে ফেলা। কায়লার মতে, ‘ছোট কাজগুলো সঙ্গে সঙ্গে করে ফেললে এগুলো আর জমে যায় না এবং পরে আপনাকে চাপেও ফেলে না।’
৩. ‘পোমোডোরো’ কৌশল
আশির দশকে ইতালির উদ্যোক্তা ফ্রান্সেসকো সিরিলো এই কৌশল উদ্ভাবন করেন। এই কৌশল সময় ব্যবস্থাপনা, কাজে মনোনিবেশ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। এই কৌশলে ২৫ মিনিট কাজের পর ৫ মিনিট বিরতি—এভাবে কাজ করা হয়। এভাবে চারবার করা হলে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের দীর্ঘ বিরতি নিতে পারবেন। এ পদ্ধতি নির্দিষ্ট ও ফোকাসড সময়সীমার মাধ্যমে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলে এবং আপনাকে অবসাদমুক্ত করে। এই কৌশলকে অনেক কার্যকর মনে করেন দুবাইয়ের কর্মক্ষেত্র পরামর্শক ও উদ্যোক্তা শ্যারন কলেট।
৪. কঠিন কাজটি সবার আগে
একটি বড় কাজ যখন বেশ চাপ তৈরি করছে, তখন কাজটিকে ছোট ছোট ভাগ করে নিন। এরপর যে ভাগটি কঠিন সেটি আগে করুন। অথবা অনেক কাজ জমে গেলে, যে কাজটি সবচেয়ে কঠিন সেটি আগে করে ফেলুন। এতে করে বাকি কাজগুলোতে মানসিক চাপ কম হবে। শুরুতেই বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলে বাকিগুলো সহজ মনে হবে।
৫. তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত না নেওয়া
স্বাস্থ্য পরামর্শক কায়লা বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ কারণে আমরা সিদ্ধান্ত ক্লান্তিতে ভুগি। এটি কাজে গড়িমসি হওয়ার অন্যতম কারণ।’
সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ করতে সপ্তাহের দিনগুলো অনুযায়ী কাজগুলো সাজিয়ে নিন। এরপর প্রতিদিনের অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে যাবে।
৬. ৭০ পার্সেন্ট রুল
কর্মক্ষেত্র পরামর্শক শ্যারন কলেট বলেন, ‘৭০ শতাংশ প্রস্তুত হলে কাজ শুরু করুন। বাকি অংশ পরে করুন। এটি আপনাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে এবং পারফেকশনিজমের ফাঁদে আটকে রাখবে না।’ তিনি বলেন, ‘যদি আপনি পারফেকশনিস্ট হন এবং সবকিছু নিখুঁত করার জন্য মুখিয়ে থাকেন তাহলে এই নিয়ম আপনার জন্য।’
৭. ফাইভ মিনিট রুল
যদি একদমই কাজটি করতে ইচ্ছা না হয়, তবুও কাজ এড়িয়ে যাবেন না। পাঁচ মিনিটের জন্য কাজটি করুন। একবার শুরু করলেই কাজটি আর কঠিন মনে হবে না। বিশেষ করে যে কাজগুলো অনেক বেশি কঠিন মনে হয়, সেগুলোকে সহজ করে তুলতে এই কৌশলটি দারুণ!
৮. পুরস্কৃত করুন নিজেকে
কর্মক্ষেত্র পরামর্শক শ্যারন কলেট তাঁর এক সহকর্মীর কথা স্মরণ করেন, ‘আমার এক সহকর্মী তাঁর কাজের তালিকার কোনো কাজ শেষ হলেই নিজেকে পুরস্কৃত করত। নিজের জন্য কিছু সময় ব্যয় করত।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মস্তিষ্ক পুরস্কার পেতে ভালোবাসে। কাজ শেষ হলে নিজেকে ছোট পুরস্কার দিন। এটি কাজকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।’
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ
ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ। দেখলেন আর দুই দিন পর গুরুত্বপূর্ণ এক প্রেজেন্টেশন, যার ওপর নির্ভর করছে অফিসের প্রমোশন। এখনই কাজ না শুরু করলে সঠিক সময়ে কাজ শেষ হবে না। কীভাবে কী করা যায়, এই চিন্তা মাথায় নিয়ে বসলেন কাজ করতে। কাজে চোখ বুলিয়ে মানসিক চাপ যেন আরও বেড়ে গেল! এ অবস্থায় মনে হলো, একটা সিনেমা দেখে আয়েশ করে কাজে বসা যাক। আরও তো দুই দিন সময় হাতে আছে।
এভাবেই আমাদের অনেক কাজ পিছিয়ে যায়। সময় যত ঘনিয়ে আসে, তত চাপও বাড়তে থাকে। শেষ মুহূর্তের চাপে কাজের মান যায় কমে। অনেক সময় সেই কাজটিই আর করা হয়ে ওঠে না।
আজকে থাক, কালকে করব—এটি যদি অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে এক ভয়াবহ ভবিষ্যৎই অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। কারণ, কাজে গড়িমসি করা আপনাকে পিছিয়ে দেবে সবক্ষেত্রেই।
কাজে গড়িমসির অভ্যাস যদি পাল্টাতে চান তাহলে আপনার জন্য কিছু কৌশল—
১. কাজকে ভাগ করে নিন ছোট ছোট অংশে
কঠিন বা বিশেষ কাজগুলো নিয়ে যখন আমরা মানসিক চাপে থাকি তখনই মনে ভয় তৈরি হয়, যা কাজ শুরু করতে দেরি করিয়ে দেয়। দুবাইয়ের সুস্থতা বিষয়ক কোচ ও ব্যবসায়িক পরামর্শক কায়লা জ্যাকসন বলেন, ‘আমরা প্রধানত কাজগুলোকে খুব বেশি জটিল ও চাপযুক্ত মনে করি বলে কাজে বিলম্ব হয় বা গড়িমসি করতে থাকি। কোনো কাজ খুব বড় বা জটিল মনে হলেই এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।’
কায়লা পরামর্শ দেন, কাজগুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিতে। তিনি বলেন, ‘যেমন, পুরো একটি প্রতিবেদন এক বসায় লিখে ফেলার চিন্তা না করে ভাগ করে নিন কোন অংশটি আগে লেখা যায়। শুরুতে কেবল ভূমিকা লেখার দিকে মনোযোগ দিন। এভাবে এগোলে মানসিক চাপ কমে এবং আপনার কাজ শুরু করা সহজ হয়ে যায়।’
২. টু মিনিট রুল
কোনো কাজ মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে করা সম্ভব হলে সেটি আর ফেলে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে করে ফেলুন। এতে ছোট কাজগুলোর চাপ কমবে। যেমন—কোনো ই–মেইলের উত্তর দেওয়া বাকি থাকলে বা কাজের টেবিল গুছিয়ে ফেলা। কায়লার মতে, ‘ছোট কাজগুলো সঙ্গে সঙ্গে করে ফেললে এগুলো আর জমে যায় না এবং পরে আপনাকে চাপেও ফেলে না।’
৩. ‘পোমোডোরো’ কৌশল
আশির দশকে ইতালির উদ্যোক্তা ফ্রান্সেসকো সিরিলো এই কৌশল উদ্ভাবন করেন। এই কৌশল সময় ব্যবস্থাপনা, কাজে মনোনিবেশ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। এই কৌশলে ২৫ মিনিট কাজের পর ৫ মিনিট বিরতি—এভাবে কাজ করা হয়। এভাবে চারবার করা হলে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের দীর্ঘ বিরতি নিতে পারবেন। এ পদ্ধতি নির্দিষ্ট ও ফোকাসড সময়সীমার মাধ্যমে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলে এবং আপনাকে অবসাদমুক্ত করে। এই কৌশলকে অনেক কার্যকর মনে করেন দুবাইয়ের কর্মক্ষেত্র পরামর্শক ও উদ্যোক্তা শ্যারন কলেট।
৪. কঠিন কাজটি সবার আগে
একটি বড় কাজ যখন বেশ চাপ তৈরি করছে, তখন কাজটিকে ছোট ছোট ভাগ করে নিন। এরপর যে ভাগটি কঠিন সেটি আগে করুন। অথবা অনেক কাজ জমে গেলে, যে কাজটি সবচেয়ে কঠিন সেটি আগে করে ফেলুন। এতে করে বাকি কাজগুলোতে মানসিক চাপ কম হবে। শুরুতেই বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলে বাকিগুলো সহজ মনে হবে।
৫. তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত না নেওয়া
স্বাস্থ্য পরামর্শক কায়লা বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ কারণে আমরা সিদ্ধান্ত ক্লান্তিতে ভুগি। এটি কাজে গড়িমসি হওয়ার অন্যতম কারণ।’
সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ করতে সপ্তাহের দিনগুলো অনুযায়ী কাজগুলো সাজিয়ে নিন। এরপর প্রতিদিনের অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে যাবে।
৬. ৭০ পার্সেন্ট রুল
কর্মক্ষেত্র পরামর্শক শ্যারন কলেট বলেন, ‘৭০ শতাংশ প্রস্তুত হলে কাজ শুরু করুন। বাকি অংশ পরে করুন। এটি আপনাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে এবং পারফেকশনিজমের ফাঁদে আটকে রাখবে না।’ তিনি বলেন, ‘যদি আপনি পারফেকশনিস্ট হন এবং সবকিছু নিখুঁত করার জন্য মুখিয়ে থাকেন তাহলে এই নিয়ম আপনার জন্য।’
৭. ফাইভ মিনিট রুল
যদি একদমই কাজটি করতে ইচ্ছা না হয়, তবুও কাজ এড়িয়ে যাবেন না। পাঁচ মিনিটের জন্য কাজটি করুন। একবার শুরু করলেই কাজটি আর কঠিন মনে হবে না। বিশেষ করে যে কাজগুলো অনেক বেশি কঠিন মনে হয়, সেগুলোকে সহজ করে তুলতে এই কৌশলটি দারুণ!
৮. পুরস্কৃত করুন নিজেকে
কর্মক্ষেত্র পরামর্শক শ্যারন কলেট তাঁর এক সহকর্মীর কথা স্মরণ করেন, ‘আমার এক সহকর্মী তাঁর কাজের তালিকার কোনো কাজ শেষ হলেই নিজেকে পুরস্কৃত করত। নিজের জন্য কিছু সময় ব্যয় করত।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মস্তিষ্ক পুরস্কার পেতে ভালোবাসে। কাজ শেষ হলে নিজেকে ছোট পুরস্কার দিন। এটি কাজকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।’
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ
রান্নায় চিনি ব্যবহারে খাবারের রঙ ও স্বাদ দুটোই বাড়ে। বিশ্বাস না হলে গরুর মাংসে চিনি ব্যবহার করেই দেখুন। তবে শুধু চিনি ব্যবহার করলেই হবে না, কীভাবে রান্না করছেন তার ওপরও নির্ভর করবে স্বাদ কেমন হবে।
১৯ দিন আগেশ্রাবণের শেষেই যদি থাকে রোদের এত তাপ, তাহলে আসছে শরতে কী হবে, বোঝাই যাচ্ছে। সকালে স্নান সেরে সেজেগুজে বের হয়েও নিস্তার নেই। আধা ঘণ্টার মধ্য়ে ঘেমে-নেয়ে নাজেহাল। রোদের তাপে ত্বকের অবস্থা খারাপ। ব্রণ হওয়ার প্রবণতাও এ ঋতুতে বেড়ে যায়। এ সময় ত্বক ঠান্ডা রাখতে পারলে ব্রণ ও র্যাশ হওয়ার আশঙ্কা কমে...
১৯ দিন আগে‘ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস করো’। ঋত্বিক ঘটকের এই কথা শোনেনি, এমন মানুষ কি আছে। কোথাও না কোথাও, কোনো না কোনোভাবে এই উক্তি আমরা বহুবার শুনেছি। খুব ইতিবাচক কথা নিঃসন্দেহে। তবে এই ‘ভাবা’ বা ‘ভাবনা’ কিংবা ‘চিন্তা’ শব্দটির উল্টো দিকে আছে ‘দুর্ভাবনা’ শব্দটি।
২০ দিন আগেরোমকূপে ত্বক নষ্ট! সেই সঙ্গে নষ্ট শান্তি। বহু কিছু করেও বাগে আনা যাচ্ছে না সেগুলো; বরং ধীরে ধীরে সংখ্যা বেড়ে চলেছে। একটু ধৈর্য ধরে বসুন। এরও প্রতিকার আছে। ঘরোয়া উপায়ে ধীরে ধীরে পোরস বা রোমকূপ বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।
২০ দিন আগে