আমিরুল ইসলাম লুকমান
দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির এক বিখ্যাত ধারক-বাহক হলো খোদা বখশ ওরিয়েন্টাল পাবলিক লাইব্রেরি। প্রায় ১৩৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতবর্ষের ইসলাম, মুসলমান, শিক্ষা ও জ্ঞান-গবেষণার ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক। এটি নিছক বইয়ের একটি সংগ্রহশালা নয়, বরং এটি এক স্বপ্ন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে রেখেছে।
এক স্বপ্ন ও তার বাস্তবায়ন
১৮৯১ সালে ভারতের বিহার রাজ্যের সমৃদ্ধ শহর পাটনার প্রাণকেন্দ্রে এই গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন মৌলভি খোদা বখশ খান। তিনি ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারের সন্তান, প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, দার্শনিক ও বইপ্রেমী। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় এই মানুষটি হায়দরাবাদের নিজামের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পূর্বপুরুষ কাজি হাইবাতুল্লাহ বাদশাহ আলমগীরের তত্ত্বাবধানে লিখিত বিশ্বখ্যাত ফতোয়াগ্রন্থ ‘ফতোয়ায়ে হিন্দিয়ার’ সহ-সংকলক ছিলেন।
খোদা বখশ খান এই গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা হলেও এর মূল স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তাঁর বাবা মৌলভি মুহাম্মদ বখশ। তিনি প্রথমে নিজের সংগ্রহে থাকা মূল্যবান বই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। পরবর্তী সময়ে বাবার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে খোদা বখশ খান লোক পাঠিয়ে এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল বই সংগ্রহ করে এটিকে এক বিশাল সংগ্রহশালায় পরিণত করেন।
জ্ঞানভান্ডার ও দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি
খোদা বখশ গ্রন্থাগারে বর্তমানে আরবি, উর্দু, ফারসি, ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান, জাপানি, রুশসহ অন্যান্য ভাষার প্রায় ২১ হাজার পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে। আর সংগৃহীত মোট বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। এখানে কোরআন-হাদিস, সিরাত, ইতিহাস, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রকৌশলসহ জ্ঞান-গবেষণার প্রায় সকল শাখার দুর্লভ বই ও পাণ্ডুলিপি রয়েছে।
এই গ্রন্থাগারে এমন দুটি আলমারি আছে, যার চাবি শুধু দুজন মানুষের কাছে থাকে। এ দুটি আলমারিতে হাতে লেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলো সংরক্ষিত আছে। শুধু দেশ-বিদেশের অনুমতিপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ গবেষকদের জন্যই এই আলমারি দুটি খোলা হয়।
প্রখ্যাত পাণ্ডুলিপি বিশেষজ্ঞ ও গ্রন্থাগারের তত্ত্বাবধায়ক জাকির হুসাইন জানান, এখানে এমন অনেক দুর্লভ বস্তু সংরক্ষিত আছে, যা পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হলো—৬৬৮ হিজরিতে লেখা কোরআনের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি। ৯ম শতাব্দীতে হরিণের চামড়ার ওপর লিখিত সুরা ইবরাহিমের পাণ্ডুলিপি। সম্রাট হুমায়ুন ও জাহাঙ্গীরের স্বাক্ষরযুক্ত ‘দেওয়ানে হাফিজ’। মহারাজা রঞ্জিত সিংয়ের সেনাদের দুষ্প্রাপ্য ডায়েরি। বাদশাহ শাহজাহানের স্বাক্ষরসংবলিত ‘তারিখে খানদানে তৈমুরিয়া’-এর একমাত্র কপি। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.)-এর স্বাক্ষরিত একটি কিতাব।
বই ও পাণ্ডুলিপির পাশাপাশি এখানে প্রাচীন থেকে আধুনিক অনেক ঐতিহাসিক ছবি ও দলিলও সংরক্ষিত আছে। অডিও-ভিডিওর আধুনিক আর্কাইভও রয়েছে।
সংরক্ষণ ও আধুনিকীকরণ
মিসর, ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, ইংল্যান্ডসহ পৃথিবীর নানা দেশ থেকে এই গ্রন্থাগারের জন্য দুর্লভ বই সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর যখন মোগলদের হাতে গড়ে ওঠা বিখ্যাত গ্রন্থকেন্দ্রগুলো ধ্বংস হতে শুরু করে, তখন হায়দরাবাদ ও রামপুরের নবাবদের সহায়তায় সেসব গ্রন্থাগার থেকে অনেক মূল্যবান গ্রন্থ এখানে নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ও বিহারের রাজ্যপালের তত্ত্বাবধানে এই ঐতিহাসিক গ্রন্থাগারটি পরিচালিত হচ্ছে। দেশ-বিদেশের পাঠক ও গবেষকদের সুবিধার জন্য আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতি, স্ক্যান কপি সরবরাহ পদ্ধতি ও প্রায় ৪০ খণ্ডের ইনডেক্স তৈরি করা হয়েছে।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।
দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির এক বিখ্যাত ধারক-বাহক হলো খোদা বখশ ওরিয়েন্টাল পাবলিক লাইব্রেরি। প্রায় ১৩৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতবর্ষের ইসলাম, মুসলমান, শিক্ষা ও জ্ঞান-গবেষণার ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক। এটি নিছক বইয়ের একটি সংগ্রহশালা নয়, বরং এটি এক স্বপ্ন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে রেখেছে।
এক স্বপ্ন ও তার বাস্তবায়ন
১৮৯১ সালে ভারতের বিহার রাজ্যের সমৃদ্ধ শহর পাটনার প্রাণকেন্দ্রে এই গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন মৌলভি খোদা বখশ খান। তিনি ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারের সন্তান, প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, দার্শনিক ও বইপ্রেমী। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় এই মানুষটি হায়দরাবাদের নিজামের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পূর্বপুরুষ কাজি হাইবাতুল্লাহ বাদশাহ আলমগীরের তত্ত্বাবধানে লিখিত বিশ্বখ্যাত ফতোয়াগ্রন্থ ‘ফতোয়ায়ে হিন্দিয়ার’ সহ-সংকলক ছিলেন।
খোদা বখশ খান এই গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা হলেও এর মূল স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তাঁর বাবা মৌলভি মুহাম্মদ বখশ। তিনি প্রথমে নিজের সংগ্রহে থাকা মূল্যবান বই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। পরবর্তী সময়ে বাবার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে খোদা বখশ খান লোক পাঠিয়ে এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল বই সংগ্রহ করে এটিকে এক বিশাল সংগ্রহশালায় পরিণত করেন।
জ্ঞানভান্ডার ও দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি
খোদা বখশ গ্রন্থাগারে বর্তমানে আরবি, উর্দু, ফারসি, ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান, জাপানি, রুশসহ অন্যান্য ভাষার প্রায় ২১ হাজার পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে। আর সংগৃহীত মোট বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। এখানে কোরআন-হাদিস, সিরাত, ইতিহাস, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রকৌশলসহ জ্ঞান-গবেষণার প্রায় সকল শাখার দুর্লভ বই ও পাণ্ডুলিপি রয়েছে।
এই গ্রন্থাগারে এমন দুটি আলমারি আছে, যার চাবি শুধু দুজন মানুষের কাছে থাকে। এ দুটি আলমারিতে হাতে লেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলো সংরক্ষিত আছে। শুধু দেশ-বিদেশের অনুমতিপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ গবেষকদের জন্যই এই আলমারি দুটি খোলা হয়।
প্রখ্যাত পাণ্ডুলিপি বিশেষজ্ঞ ও গ্রন্থাগারের তত্ত্বাবধায়ক জাকির হুসাইন জানান, এখানে এমন অনেক দুর্লভ বস্তু সংরক্ষিত আছে, যা পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হলো—৬৬৮ হিজরিতে লেখা কোরআনের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি। ৯ম শতাব্দীতে হরিণের চামড়ার ওপর লিখিত সুরা ইবরাহিমের পাণ্ডুলিপি। সম্রাট হুমায়ুন ও জাহাঙ্গীরের স্বাক্ষরযুক্ত ‘দেওয়ানে হাফিজ’। মহারাজা রঞ্জিত সিংয়ের সেনাদের দুষ্প্রাপ্য ডায়েরি। বাদশাহ শাহজাহানের স্বাক্ষরসংবলিত ‘তারিখে খানদানে তৈমুরিয়া’-এর একমাত্র কপি। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.)-এর স্বাক্ষরিত একটি কিতাব।
বই ও পাণ্ডুলিপির পাশাপাশি এখানে প্রাচীন থেকে আধুনিক অনেক ঐতিহাসিক ছবি ও দলিলও সংরক্ষিত আছে। অডিও-ভিডিওর আধুনিক আর্কাইভও রয়েছে।
সংরক্ষণ ও আধুনিকীকরণ
মিসর, ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, ইংল্যান্ডসহ পৃথিবীর নানা দেশ থেকে এই গ্রন্থাগারের জন্য দুর্লভ বই সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর যখন মোগলদের হাতে গড়ে ওঠা বিখ্যাত গ্রন্থকেন্দ্রগুলো ধ্বংস হতে শুরু করে, তখন হায়দরাবাদ ও রামপুরের নবাবদের সহায়তায় সেসব গ্রন্থাগার থেকে অনেক মূল্যবান গ্রন্থ এখানে নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ও বিহারের রাজ্যপালের তত্ত্বাবধানে এই ঐতিহাসিক গ্রন্থাগারটি পরিচালিত হচ্ছে। দেশ-বিদেশের পাঠক ও গবেষকদের সুবিধার জন্য আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতি, স্ক্যান কপি সরবরাহ পদ্ধতি ও প্রায় ৪০ খণ্ডের ইনডেক্স তৈরি করা হয়েছে।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যা মানবজীবনের প্রতিটি দিকের জন্য সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে যখন পারিবারিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে, তখন ইসলামি শিক্ষার প্রচলন...
১৮ দিন আগেপবিত্র কোরআনের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ আয়াত হলো ‘আয়াতুল কুরসি।’ মহানবী (সা.) এই আয়াতটিকে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একবার তিনি সাহাবি উবাই ইবনে কাআব (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার মতে কোরআনের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মহান?’ জবাবে উবাই (রা.) বলেন, ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া...’
১৮ দিন আগেক্ষমতা বা রাজত্ব পেলে মানুষ আল্লাহ ভোলা হয়ে যায়। হয়ে ওঠে বেপরোয়া ও অহংকারী। দুর্বলের ওপর অবাধে চালায় অত্যাচার ও নিপীড়ন। আসলে ক্ষমতাসীনদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা একটা বড় পরীক্ষা। ক্ষমতা পেয়ে বান্দা কেমন আচরণ করে, সেটাই দেখতে চান আল্লাহ তাআলা। তবে সবাই তো এক না।
১৮ দিন আগেআল্লাহ তাআলার অফুরন্ত নেয়ামতের অবারিত ঠিকানা জান্নাত। জান্নাতকে পার্থিব নেয়ামত দ্বারা আল্লাহ তাআলা সাজিয়েছেন—যা কোনো চোখ চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো ব্যক্তির অন্তর তা কল্পনাও করতে পারেনি।
১৮ দিন আগে