শাব্বির আহমদ
হিজরি সনের দ্বিতীয় মাস সফর। জাহিলি যুগে এই মাসকে অশুভ, বিপৎসংকুল ও অলক্ষুনে মাস হিসেবে বিবেচনা করা হতো। মানুষ মনে করত, এ মাসে শুভ কিছু হয় না—বিয়ে করলে বিচ্ছেদ হয়, ব্যবসা করলে লোকসান হয়, রোগবালাই বাড়ে। এমনকি সফরকে বলা হতো ‘আস-সাফারুল মুসাফফার’, অর্থাৎ বিবর্ণ সফর মাস। কারণ তখন খরা ও খাদ্যসংকট দেখা দিত।
অতঃপর ইসলাম আসে এসব কুসংস্কারের মূলোৎপাটন করতে। মানুষকে যুক্তিবোধ ও আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে। আরব সমাজে ছড়িয়ে থাকা কুসংস্কারকে অস্বীকার করে পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন আয়াত অবতীর্ণ হয়। কুসংস্কারে বিশ্বাস করা পূর্ববর্তীদের উদাহরণ টেনে আল্লাহ বলেন, ‘তারা (সালিহকে) বলল, তুমি ও তোমার সঙ্গে যারা আছে, তাদের আমরা অমঙ্গলের কারণ মনে করি। সালিহ বললেন, তোমাদের শুভ-অশুভ আল্লাহর কাছেই নির্ধারিত। বস্তুত, তোমরা এমন এক সম্প্রদায়, যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে।’ (সুরা নামল: ৪৭)
হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘রোগের মধ্যে (আল্লাহর হুকুম ছাড়া) সংক্রমণ নেই। শুভ-অশুভ লক্ষণ বলে কিছু নেই। প্যাঁচায় কুলক্ষণ নেই এবং সফর মাসে অকল্যাণ নেই।’ (সহিহ বুখারি: ৫৩৪৬)
সফর মাসে মুমিনের করণীয়
ইসলামের বিধানমতে, প্রতিটি দিন ও মাসই আল্লাহর দান। সফর মাসও ব্যতিক্রম নয়। এই মাসে যেমন ফরজ ইবাদতের প্রতি গুরুত্বারোপ করা উচিত, তেমনই নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা, জিকির-আজকার, কবর জিয়ারত, নফল রোজা ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করা উচিত।
প্রতি চান্দ্রমাসে নির্দিষ্ট যে আমলগুলো রয়েছে, সেগুলো সফর মাসেও করা যেতে পারে। যেমন ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বিজের রোজা রাখা যেতে পারে। এই রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে—আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি মাসে তিনটি করে রোজা রাখা, সারা বছর রোজা রাখার সমান।’ (সহিহ বুখারি: ১১৫৯, ১৯৭৫)
পাশাপাশি এ মাসের প্রতি সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা যেতে পারে। কেননা আমাদের নবী করিম (সা.) প্রতি সপ্তাহের এই দুই দিন রোজা রাখতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখাকে প্রাধান্য দিতেন।’ (জামে তিরমিজি: ১০২৭)
সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার কারণ হিসেবে রাসুল (সা.) বলেন, ‘(প্রতি সপ্তাহের) সোম ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়ে থাকে। আমি রোজাদার অবস্থায় আমার আমলগুলো আল্লাহর দরবারে পেশ করা হোক—এমনটি পছন্দ করছি।’ (জামে তিরমিজি: ৭৪৭)
সফর মাস হোক আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, আল্লাহর রহমত ও বরকত অর্জনের মাধ্যম। মুমিনের উচিত এই মাসটিকে আত্মশুদ্ধির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা। বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা। যেকোনো মাসেই আল্লাহর রহমত সুলভ, তাই কোনো মাসেই আল্লাহর রহমত অর্জনের চেষ্টা থেকে পিছপা হওয়া একজন মুমিনের শান নয়। অতএব, সফর মাসে কুসংস্কার পেছনে ফেলে আত্মিক উন্নয়ন ও আমলের প্রতিযোগিতাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
হিজরি সনের দ্বিতীয় মাস সফর। জাহিলি যুগে এই মাসকে অশুভ, বিপৎসংকুল ও অলক্ষুনে মাস হিসেবে বিবেচনা করা হতো। মানুষ মনে করত, এ মাসে শুভ কিছু হয় না—বিয়ে করলে বিচ্ছেদ হয়, ব্যবসা করলে লোকসান হয়, রোগবালাই বাড়ে। এমনকি সফরকে বলা হতো ‘আস-সাফারুল মুসাফফার’, অর্থাৎ বিবর্ণ সফর মাস। কারণ তখন খরা ও খাদ্যসংকট দেখা দিত।
অতঃপর ইসলাম আসে এসব কুসংস্কারের মূলোৎপাটন করতে। মানুষকে যুক্তিবোধ ও আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে। আরব সমাজে ছড়িয়ে থাকা কুসংস্কারকে অস্বীকার করে পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন আয়াত অবতীর্ণ হয়। কুসংস্কারে বিশ্বাস করা পূর্ববর্তীদের উদাহরণ টেনে আল্লাহ বলেন, ‘তারা (সালিহকে) বলল, তুমি ও তোমার সঙ্গে যারা আছে, তাদের আমরা অমঙ্গলের কারণ মনে করি। সালিহ বললেন, তোমাদের শুভ-অশুভ আল্লাহর কাছেই নির্ধারিত। বস্তুত, তোমরা এমন এক সম্প্রদায়, যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে।’ (সুরা নামল: ৪৭)
হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘রোগের মধ্যে (আল্লাহর হুকুম ছাড়া) সংক্রমণ নেই। শুভ-অশুভ লক্ষণ বলে কিছু নেই। প্যাঁচায় কুলক্ষণ নেই এবং সফর মাসে অকল্যাণ নেই।’ (সহিহ বুখারি: ৫৩৪৬)
সফর মাসে মুমিনের করণীয়
ইসলামের বিধানমতে, প্রতিটি দিন ও মাসই আল্লাহর দান। সফর মাসও ব্যতিক্রম নয়। এই মাসে যেমন ফরজ ইবাদতের প্রতি গুরুত্বারোপ করা উচিত, তেমনই নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা, জিকির-আজকার, কবর জিয়ারত, নফল রোজা ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করা উচিত।
প্রতি চান্দ্রমাসে নির্দিষ্ট যে আমলগুলো রয়েছে, সেগুলো সফর মাসেও করা যেতে পারে। যেমন ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বিজের রোজা রাখা যেতে পারে। এই রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে—আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি মাসে তিনটি করে রোজা রাখা, সারা বছর রোজা রাখার সমান।’ (সহিহ বুখারি: ১১৫৯, ১৯৭৫)
পাশাপাশি এ মাসের প্রতি সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা যেতে পারে। কেননা আমাদের নবী করিম (সা.) প্রতি সপ্তাহের এই দুই দিন রোজা রাখতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখাকে প্রাধান্য দিতেন।’ (জামে তিরমিজি: ১০২৭)
সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার কারণ হিসেবে রাসুল (সা.) বলেন, ‘(প্রতি সপ্তাহের) সোম ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়ে থাকে। আমি রোজাদার অবস্থায় আমার আমলগুলো আল্লাহর দরবারে পেশ করা হোক—এমনটি পছন্দ করছি।’ (জামে তিরমিজি: ৭৪৭)
সফর মাস হোক আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, আল্লাহর রহমত ও বরকত অর্জনের মাধ্যম। মুমিনের উচিত এই মাসটিকে আত্মশুদ্ধির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা। বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা। যেকোনো মাসেই আল্লাহর রহমত সুলভ, তাই কোনো মাসেই আল্লাহর রহমত অর্জনের চেষ্টা থেকে পিছপা হওয়া একজন মুমিনের শান নয়। অতএব, সফর মাসে কুসংস্কার পেছনে ফেলে আত্মিক উন্নয়ন ও আমলের প্রতিযোগিতাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যা মানবজীবনের প্রতিটি দিকের জন্য সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে যখন পারিবারিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে, তখন ইসলামি শিক্ষার প্রচলন...
১৮ দিন আগেপবিত্র কোরআনের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ আয়াত হলো ‘আয়াতুল কুরসি।’ মহানবী (সা.) এই আয়াতটিকে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একবার তিনি সাহাবি উবাই ইবনে কাআব (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার মতে কোরআনের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মহান?’ জবাবে উবাই (রা.) বলেন, ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া...’
১৮ দিন আগেক্ষমতা বা রাজত্ব পেলে মানুষ আল্লাহ ভোলা হয়ে যায়। হয়ে ওঠে বেপরোয়া ও অহংকারী। দুর্বলের ওপর অবাধে চালায় অত্যাচার ও নিপীড়ন। আসলে ক্ষমতাসীনদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা একটা বড় পরীক্ষা। ক্ষমতা পেয়ে বান্দা কেমন আচরণ করে, সেটাই দেখতে চান আল্লাহ তাআলা। তবে সবাই তো এক না।
১৯ দিন আগেআল্লাহ তাআলার অফুরন্ত নেয়ামতের অবারিত ঠিকানা জান্নাত। জান্নাতকে পার্থিব নেয়ামত দ্বারা আল্লাহ তাআলা সাজিয়েছেন—যা কোনো চোখ চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো ব্যক্তির অন্তর তা কল্পনাও করতে পারেনি।
১৯ দিন আগে