মুফতি ইশমাম আহমেদ
প্রশ্ন: নামাজ আদায় করার সময় অজু ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। এ অবস্থায় নামাজির করণীয় কী? তিনি ইমাম হলে কী করণীয়, মুক্তাদি হলে কী করণীয় এবং একাকী মুসল্লি হলে কী করণীয়?
জামিল হাসান নাফি, ঢাকা
উত্তর: প্রশ্নে উল্লিখিত বিষয়গুলোর উত্তর এক কথায় দেওয়া সম্ভব নয়, এখানে কয়েকটি পয়েন্টে পুরো বিষয়টি তুলে ধরা হলো—
এক.
যদি নামাজ আদায় করার সময় কারও অজু ভেঙে যায় এবং তিনি ইমাম হন, তাহলে পেছনে দাঁড়ানো ইমামতি করার যোগ্য এবং মাসবুক নন এমন কোনো ব্যক্তিকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করবেন। তিনি নামাজ চালিয়ে যাবেন। আর মুক্তাদি হলে বা একাকী নামাজ আদায় করলে কাউকে স্থলাভিষিক্ত করার দরকার নেই। এরপর কারও সঙ্গে কোনো কথা না বলে নামাজ ছেড়ে অজু করার জন্য চলে যাবেন। অজু করে ফিরে এসে জামাতের সঙ্গে বাকি নামাজে যুক্ত হতে পারবেন এবং মুক্তাদি হিসেবে বাকি নামাজ আদায় করবেন। অজু করতে যাওয়ার সময় যে কয় রাকাত ছুটে গেল, তা পরে মাসবুক হিসেবে আদায় করবেন। এ ক্ষেত্রে ইমাম হিসেবে যতটুকু নামাজ তিনি আদায় করেছেন, তা আবার আদায় করতে হবে না।
দুই.
ওপরের মাসআলা অনিচ্ছাকৃত অজু ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ইচ্ছাকৃত অজু ভেঙে ফেললে এমনভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। আগের নামাজে যুক্ত না হয়ে নতুন করে পুরো নামাজ আদায় করাই উত্তম। অবশ্য কোনো কোনো আলিম বলেছেন, একাকী নামাজরত ব্যক্তির এমন হলে অজু করে নতুনভাবে নামাজ আদায় করা উত্তম হলেও মুক্তাদি ও ইমামের জন্য জামাতে যুক্ত হয়ে ফজিলত অর্জন করাই উত্তম।
তিন.
অজু করার পর একাকী নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি চাইলে অজুর স্থানেই বাকি নামাজ শেষ করতে পারবেন। চাইলে আগের স্থানে গিয়েও শেষ করতে পারবেন। তবে মুক্তাদি হয়ে বাকি নামাজ আদায় করতে চাইলে অবশ্যই আগের স্থানে ফিরে গিয়ে জামাতে যুক্ত হতে হবে। ততক্ষণে জামাত শেষ হয়ে গেলে অথবা অজুর স্থান পর্যন্ত জামাতের মুসল্লি দাঁড়ালে মুক্তাদি সেখানেও দাঁড়াতে পারবেন।
চার.
যদি ব্যক্তি অজু ভেঙে গেছে মনে করে নামাজ ছেড়ে অজু করতে যান এবং পরে বুঝতে পারেন যে, আসলে তাঁর অজু ভাঙেনি এবং ততক্ষণে তিনি যদি মসজিদ থেকে বের না হন, তাহলে বাকি নামাজ আদায় করতে পারবেন। আর মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলে তাঁকে নতুনভাবে নামাজ আদায় করতে হবে। আর তিনি যদি ইমাম হন এবং কাউকে স্থলাভিষিক্ত করে যান, তাহলে তাঁর নামাজ ভেঙে যাবে।
পাঁচ.
যদি শেষ বৈঠকের তাশাহুদ পড়ার পরে অজু ভেঙে যায়, তাহলে অজু করে সালাম ফিরিয়ে নেবেন। আর তাশাহুদ পড়ার পর মুসল্লি ইচ্ছাকৃত অজু ভাঙলে নামাজ পূর্ণ হয়ে যাবে, তবে সালাম ফেরানোর ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ায় গুনাহগার হবেন।
ছয়.
রুকু বা সিজদায় যদি অজু ভেঙে যায়, তবে তিনি অজু করে সেই রুকু বা সিজদা থেকেই শুরু করবেন। কারণ সেই রুকন অজু ভেঙে যাওয়ার কারণে পুরোপুরি আদায় হয়নি।
সাত.
যে ইমামের সঙ্গে মাত্র একজন মুক্তাদি আছেন, তাঁর অজু ভেঙে গেলে এবং তিনি ওই মুক্তাদিকে স্থলাভিষিক্ত না করে বেরিয়ে গেলেও তিনি ভারপ্রাপ্ত ইমাম হয়ে যাবেন। আসল ইমাম নিয়ত করুন বা না করুন। আর আসল ইমাম অজু করে এসে মুক্তাদি হিসেবে বাকি নামাজ শেষ করতে পারবেন।
আট.
মুক্তাদি নারী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে হলে এবং ইমামের অজু ভেঙে গেলে দুজনেরই নামাজ ভেঙে যাবে। দুজনকেই নতুনভাবে নামাজ আদায় করতে হবে।
সূত্র: আল-হিদায়া (১ / ১০৩-১০৮) থেকে সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।
উত্তর দিয়েছেন,মুফতি ইশমাম আহমেদ,ইসলামবিষয়ক গবেষক
প্রশ্ন: নামাজ আদায় করার সময় অজু ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। এ অবস্থায় নামাজির করণীয় কী? তিনি ইমাম হলে কী করণীয়, মুক্তাদি হলে কী করণীয় এবং একাকী মুসল্লি হলে কী করণীয়?
জামিল হাসান নাফি, ঢাকা
উত্তর: প্রশ্নে উল্লিখিত বিষয়গুলোর উত্তর এক কথায় দেওয়া সম্ভব নয়, এখানে কয়েকটি পয়েন্টে পুরো বিষয়টি তুলে ধরা হলো—
এক.
যদি নামাজ আদায় করার সময় কারও অজু ভেঙে যায় এবং তিনি ইমাম হন, তাহলে পেছনে দাঁড়ানো ইমামতি করার যোগ্য এবং মাসবুক নন এমন কোনো ব্যক্তিকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করবেন। তিনি নামাজ চালিয়ে যাবেন। আর মুক্তাদি হলে বা একাকী নামাজ আদায় করলে কাউকে স্থলাভিষিক্ত করার দরকার নেই। এরপর কারও সঙ্গে কোনো কথা না বলে নামাজ ছেড়ে অজু করার জন্য চলে যাবেন। অজু করে ফিরে এসে জামাতের সঙ্গে বাকি নামাজে যুক্ত হতে পারবেন এবং মুক্তাদি হিসেবে বাকি নামাজ আদায় করবেন। অজু করতে যাওয়ার সময় যে কয় রাকাত ছুটে গেল, তা পরে মাসবুক হিসেবে আদায় করবেন। এ ক্ষেত্রে ইমাম হিসেবে যতটুকু নামাজ তিনি আদায় করেছেন, তা আবার আদায় করতে হবে না।
দুই.
ওপরের মাসআলা অনিচ্ছাকৃত অজু ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ইচ্ছাকৃত অজু ভেঙে ফেললে এমনভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। আগের নামাজে যুক্ত না হয়ে নতুন করে পুরো নামাজ আদায় করাই উত্তম। অবশ্য কোনো কোনো আলিম বলেছেন, একাকী নামাজরত ব্যক্তির এমন হলে অজু করে নতুনভাবে নামাজ আদায় করা উত্তম হলেও মুক্তাদি ও ইমামের জন্য জামাতে যুক্ত হয়ে ফজিলত অর্জন করাই উত্তম।
তিন.
অজু করার পর একাকী নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি চাইলে অজুর স্থানেই বাকি নামাজ শেষ করতে পারবেন। চাইলে আগের স্থানে গিয়েও শেষ করতে পারবেন। তবে মুক্তাদি হয়ে বাকি নামাজ আদায় করতে চাইলে অবশ্যই আগের স্থানে ফিরে গিয়ে জামাতে যুক্ত হতে হবে। ততক্ষণে জামাত শেষ হয়ে গেলে অথবা অজুর স্থান পর্যন্ত জামাতের মুসল্লি দাঁড়ালে মুক্তাদি সেখানেও দাঁড়াতে পারবেন।
চার.
যদি ব্যক্তি অজু ভেঙে গেছে মনে করে নামাজ ছেড়ে অজু করতে যান এবং পরে বুঝতে পারেন যে, আসলে তাঁর অজু ভাঙেনি এবং ততক্ষণে তিনি যদি মসজিদ থেকে বের না হন, তাহলে বাকি নামাজ আদায় করতে পারবেন। আর মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলে তাঁকে নতুনভাবে নামাজ আদায় করতে হবে। আর তিনি যদি ইমাম হন এবং কাউকে স্থলাভিষিক্ত করে যান, তাহলে তাঁর নামাজ ভেঙে যাবে।
পাঁচ.
যদি শেষ বৈঠকের তাশাহুদ পড়ার পরে অজু ভেঙে যায়, তাহলে অজু করে সালাম ফিরিয়ে নেবেন। আর তাশাহুদ পড়ার পর মুসল্লি ইচ্ছাকৃত অজু ভাঙলে নামাজ পূর্ণ হয়ে যাবে, তবে সালাম ফেরানোর ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ায় গুনাহগার হবেন।
ছয়.
রুকু বা সিজদায় যদি অজু ভেঙে যায়, তবে তিনি অজু করে সেই রুকু বা সিজদা থেকেই শুরু করবেন। কারণ সেই রুকন অজু ভেঙে যাওয়ার কারণে পুরোপুরি আদায় হয়নি।
সাত.
যে ইমামের সঙ্গে মাত্র একজন মুক্তাদি আছেন, তাঁর অজু ভেঙে গেলে এবং তিনি ওই মুক্তাদিকে স্থলাভিষিক্ত না করে বেরিয়ে গেলেও তিনি ভারপ্রাপ্ত ইমাম হয়ে যাবেন। আসল ইমাম নিয়ত করুন বা না করুন। আর আসল ইমাম অজু করে এসে মুক্তাদি হিসেবে বাকি নামাজ শেষ করতে পারবেন।
আট.
মুক্তাদি নারী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে হলে এবং ইমামের অজু ভেঙে গেলে দুজনেরই নামাজ ভেঙে যাবে। দুজনকেই নতুনভাবে নামাজ আদায় করতে হবে।
সূত্র: আল-হিদায়া (১ / ১০৩-১০৮) থেকে সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।
উত্তর দিয়েছেন,মুফতি ইশমাম আহমেদ,ইসলামবিষয়ক গবেষক
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যা মানবজীবনের প্রতিটি দিকের জন্য সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে যখন পারিবারিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে, তখন ইসলামি শিক্ষার প্রচলন...
১৮ দিন আগেপবিত্র কোরআনের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ আয়াত হলো ‘আয়াতুল কুরসি।’ মহানবী (সা.) এই আয়াতটিকে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একবার তিনি সাহাবি উবাই ইবনে কাআব (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার মতে কোরআনের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মহান?’ জবাবে উবাই (রা.) বলেন, ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া...’
১৮ দিন আগেক্ষমতা বা রাজত্ব পেলে মানুষ আল্লাহ ভোলা হয়ে যায়। হয়ে ওঠে বেপরোয়া ও অহংকারী। দুর্বলের ওপর অবাধে চালায় অত্যাচার ও নিপীড়ন। আসলে ক্ষমতাসীনদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা একটা বড় পরীক্ষা। ক্ষমতা পেয়ে বান্দা কেমন আচরণ করে, সেটাই দেখতে চান আল্লাহ তাআলা। তবে সবাই তো এক না।
১৯ দিন আগেআল্লাহ তাআলার অফুরন্ত নেয়ামতের অবারিত ঠিকানা জান্নাত। জান্নাতকে পার্থিব নেয়ামত দ্বারা আল্লাহ তাআলা সাজিয়েছেন—যা কোনো চোখ চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো ব্যক্তির অন্তর তা কল্পনাও করতে পারেনি।
১৯ দিন আগে