Ajker Patrika

সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫, ১২: ৫৯
অস্ট্রেলিয়ায় ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার মতো অস্ট্রেলিয়াও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আগামী সেপ্টেম্বর অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে দেশটি।

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ জানান, অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কাছ থেকে কয়েকটি প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—নিরস্ত্রীকরণ, সাধারণ নির্বাচন আয়োজন এবং ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতার চক্র ভাঙার এবং গাজায় সংঘাত, কষ্ট ও অনাহারের অবসান ঘটানোর সর্বোত্তম উপায়।

আলবানিজ বলেন, তাঁর সরকার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে একটি সুযোগ এসেছে, এবং অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে সেটিকে কাজে লাগাবে।’

এদিকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে থাকা ইসরায়েল বলেছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে ‘সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা’।

ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও জানিয়েছে, তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নেবে না (স্বীকৃতি দেওয়া) এবং তারা মনে করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হামাসকে পুরস্কৃত করা।

গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া দেশগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় দেশগুলো এবং অস্ট্রেলিয়া যদি সেই গহ্বরের মধ্যে প্রবেশ করে, এটি হতাশাজনক। আমার মনে হয় এটি আসলে লজ্জাজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা জানে, যদি মেলবোর্ন বা সিডনির একেবারে পাশে এ ধরনের ভয়াবহ হামলা হতো, তাহলে কী করত। আমার মনে হয়, অন্তত আমরা যা করছি, আপনারাও তাই করতেন।’

সাম্প্রতিক দিনে গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েল সমালোচনার মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূতরা এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন, যদিও নেতানিয়াহুর দাবি এটি যুদ্ধ শেষ করার ‘সর্বোত্তম উপায়’।

গত বছর স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, এই আশা নিয়ে যে এটি হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে ত্বরান্বিত করবে।

বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের মর্যাদা ‘স্থায়ী পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’ হিসেবে, যা আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয় তবে ভোটাধিকার দেয় না।

ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল, রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাওয়া মানে তাদের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বিশ্বব্যাপী সমর্থন বৃদ্ধি পাওয়া।

হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত শনিবার থেকে গাজায় অনাহার ও পুষ্টিহীনতায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, এতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৭ জনে। এছাড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে মোট ৬১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

ওই বছরের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার জবাবে গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। সেই হামলায় প্রায় ১২০০ জন নিহত এবং আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত