Ajker Patrika

ইরানি মুদ্রা ‘রিয়াল’ থেকে চারটি শূন্য বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৮: ৫৫
ইরাকের বসরায় একটি মানি এক্সচেঞ্জ কেন্দ্রে ইরানি রিয়াল গুনছেন এক ব্যক্তি। ছবি: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
ইরাকের বসরায় একটি মানি এক্সচেঞ্জ কেন্দ্রে ইরানি রিয়াল গুনছেন এক ব্যক্তি। ছবি: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

প্রস্তাবনাটি ইরানের সংসদীয় কমিটিতে ইতিমধ্যে পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির জাতীয় মুদ্রা রিয়াল থেকে চারটি শূন্য বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন একেকটি রিয়াল নোট বর্তমান ১০ হাজার রিয়ালের সমান হবে। গতকাল রোববার সংসদের অর্থনৈতিক কমিটির প্রধান জানান, প্রতিটি নতুন রিয়াল ১০০ কিরানে বিভক্ত থাকবে।

সোমবার (৪ আগস্ট) ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইরানের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বৈশ্বিক আর্থিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাপক জনদুর্ভোগ ও বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে রিয়াল তার মূল্যমানের ৯০ শতাংশের বেশি হারিয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুদ্রা থেকে শূন্য বাদ দেওয়ার কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও হিসাবনিকাশ সংক্রান্ত সুবিধা থাকলেও এটি ইরানের গভীর অর্থনৈতিক সমস্যার প্রকৃত সমাধান নয়। সোমবার ইরান ইন্টারন্যাশনালকে অর্থনীতিবিদ আহমাদ আলাভি বলেন, ‘এই নীতিটি মূলত এক ধরনের চমকপ্রদ পদক্ষেপ। এর ফলে কিছু শূন্য মুছে ফেলা হয়, যা মানুষের মধ্যে এক ধরনের মানসিক প্রভাব ফেলে, যেন টাকার মূল্য বেড়েছে। হিসাব-নিকাশ করাও সহজ হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুদ্রায় অতিরিক্ত শূন্য থাকা আসলে কাঠামোগত মুদ্রাস্ফীতির লক্ষণ, যা গভীর অর্থনৈতিক দুর্বলতা, নীতিগত ব্যর্থতা, পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা এবং এক ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত, রেন্ট-নির্ভর অর্থনীতির ফল।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে সরকারিভাবে ঘোষিত মুদ্রাস্ফীতির হার কখনোই ৩০ শতাংশের নিচে নামেনি। ট্রেডিং ইকোনমিকস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ইরানের সর্বনিম্ন মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৩১ শতাংশ (মে ২০২৪), আর সর্বোচ্চ ৩৮.৯ শতাংশ (এপ্রিল ২০২৫)।

আলাভি বলেন, ‘মূল সমস্যা হচ্ছে কাঠামো। ইরানের অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার করতে হবে, যাতে মুদ্রার স্থিতিশীলতা ও কম মুদ্রাস্ফীতি নিশ্চিত করা যায়। যদি বর্তমান কাঠামো বহাল থাকে, তাহলে সমস্যা থেকেই যাবে—আর রিয়ালের মূল্যমান অন্য মুদ্রার বিপরীতে আরও কমতে থাকবে।’

এই বিলটি এখনো চূড়ান্ত সংসদীয় অনুমোদন পায়নি। এটি পাস হলে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে এবং তারপর আইনে পরিণত হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত