Ajker Patrika

এআইইউবি শিক্ষার্থীদের রংতুলির ছোঁয়ায় পানাম নগর

মমতাজ জাহান মম
শিল্পীরা যেন নিজেদের চিন্তাভাবনাকে বাস্তব রূপ দিচ্ছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
শিল্পীরা যেন নিজেদের চিন্তাভাবনাকে বাস্তব রূপ দিচ্ছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

পথের দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন দালানগুলো যেন সেদিন হঠাৎ প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। ধুলো মাখা জানালা, খসে পড়া দেয়াল, পোড়া ইটের গায়ে তুলির আঁচড় পড়ে ছিল। অতীতের গল্প যেন ফিরে এসেছে রঙে, রেখায়, অনুভবে। বলছি ঐতিহাসিক পানাম নগরের কথা।

সম্প্রতি বর্ষার এক সকালে ইতিহাসের শহর পানাম নগরে হাজির এআইইউবি আর্টস ক্লাবের সদস্যরা। তাদের গাইড করছিলেন নিয়াজ মজুমদার স্যার। কারও হাতে স্কেচবুক, কারও ব্যাগভর্তি রংতুলি—চোখে কৌতূহল, মনে এক টুকরো শিল্পের আলো।

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে অবস্থিত পানাম নগর। এটি ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক জীবন্ত জাদুঘর। ষোড়শ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত মসলিনের ব্যবসায় খ্যাতি পাওয়া এ শহরে মোগল, ইউরোপীয় ও বাংলার নিজস্ব স্থাপত্যশৈলীর অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখা যায়। সেই ইতিহাসেরই ছোঁয়া পেতে হাজির এআইইউবি আর্টস ক্লাব। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে ছড়িয়ে পড়ে বিস্ময়। দেয়াল, জানালা, বারান্দা—সব যেন অতীতের গল্প বলে। কেউ তুলিতে ফুটিয়ে তোলে ক্ষয়ে যাওয়া দেয়ালের রং, কেউ খালি চোখে খোঁজে হারিয়ে যাওয়া নকশার নিঃশব্দ ভাষা।

ক্লাবের মেন্টর নিয়াজ মজুমদার বলেন, ‘শুধু ভ্রমণ নয়, শিক্ষার্থীরা যেন তাদের চোখ দিয়ে ইতিহাসকে নতুনভাবে দেখে ও উপলব্ধি করতে পারে; সেটাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। তারা বাস্তব আর কল্পনার যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, তা নিঃসন্দেহে অসাধারণ।’

ক্লাব প্রেসিডেন্ট কিংশুক বিশ্বাস বলেন, ‘পানাম নগরের প্রতিটি দেয়াল যেন একেকটা গল্প বলছিল। শিল্পীরা যেন নিজেদের চিন্তাভাবনাকে বাস্তব রূপ দিচ্ছিলেন। এ ধরনের ভ্রমণ আমাদের শিল্পীসত্তার খোরাক।’

শিক্ষার্থী রাফা পড়ছেন আর্কিটেকচার বিভাগে। তিনি বলেন, ‘লাইভ আর্ট করতে গিয়ে মনে হচ্ছিল, আমি যেন সময়ের এক অংশ হয়ে গেছি। চারপাশের নীরবতা শুনিয়েছিল শতাব্দী পেরোনো গল্প। আমি বারবার এমন স্থাপত্য দেখতে চাই। এ রকম চমৎকার দিনের জন্য আর্টস ক্লাবের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

আহনাফ সম্রাট বলেন, ‘আমি শুধু ইতিহাস দেখিনি, আমি সেটা অনুভব করেছি আমার রং ও কল্পনার ভেতর দিয়ে। জীবনের প্রথম এত বড় আর্ট আউটিং সব সময় মনে থাকবে।’

এআইইউবি আর্টস ক্লাবের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীরা মনে করে, এমন উদ্যোগ তাদের কেবল ইতিহাস-ঐতিহ্য শেখায় না, বরং শিল্পচর্চাকে করে সমৃদ্ধ, চিন্তাকে করে প্রসারিত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত