Ajker Patrika

একীভূত না হলেও আমানত ফেরত পাবে গ্রাহক

জয়নাল আবেদীন খান, ঢাকা 
একীভূত না হলেও আমানত ফেরত পাবে গ্রাহক
প্রতীকী ছবি

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দুর্বল এবং একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা শতভাগ আমানত ফেরত পাবেন—এমন ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ‘আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর পরিমার্জিত খসড়া অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদ।

গতকাল বুধবার গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪৪১তম পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

বর্তমানে পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করার সরকারি ঘোষণা রয়েছে। এ ঘোষণার পর থেকেই ৯২ লাখ গ্রাহকের মধ্যে অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক এবং ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব ব্যাংক একীভূত না হলেও গ্রাহকদের সঞ্চয় শতভাগ ফেরত দেওয়া হবে। একই ধরনের সুরক্ষা পাবেন ১৬টি দুর্বল ও সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরাও।

বিশেষ তহবিল গঠন ও বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনা

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিশেষ তহবিল গঠনের মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। প্রয়োজনে টাকা ছাপানো কিংবা বন্ড ইস্যু করেও তহবিল সংগ্রহের চিন্তা রয়েছে। বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে ২ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা দিয়েছে একটি সূত্র।

এ প্রসঙ্গে জানতে মতামত চাইলে বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘোষণার পর গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতা দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’

পেছনের প্রেক্ষাপট

বর্তমানে দেশে ১৭ কোটি ব্যাংক আমানতকারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশের আমানত ২ লাখ টাকার নিচে। বর্তমানে দেউলিয়া কোনো ব্যাংকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিমা রয়েছে, যা সম্পূর্ণ ফেরতযোগ্য। তবে সাড়ে ৯ কোটি গ্রাহকের জন্য এতটুকু বিমা যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের সুরক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এ সীমার ওপরে থাকা অর্থের বিপরীতে রাষ্ট্রীয় ট্রেজারি বন্ড দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।

ডিজিটাল ব্যাংক নিয়ে নতুন দরখাস্ত

পর্ষদ সভায় ডিজিটাল ব্যাংক নিয়েও আলোচনায় আসে। আগের প্রক্রিয়ায় নগদ ও কুড়িকে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে স্বচ্ছতার অভাব ও রাজনৈতিক পক্ষপাত নিয়ে বিতর্ক থাকায় এবার নতুন করে দরখাস্ত আহ্বান ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতামত

ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না করে টাকা ছাপানো ঠিক হবে না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ‘পর্ষদের অ্যাজেন্ডায় গ্রাহক সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আলোচিত হয়েছে। দুর্বল ব্যাংক ও একীভূতের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহকদের শতভাগ আমানত সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বদ্ধপরিকর।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত