গনেশ দাস, বগুড়া
বগুড়ার কাহালু উপজেলার আড়োলা, যোগীর ভবন ও আতাইলপাড়া গ্রামের তালপাতার তৈরি হাতপাখার খ্যাতি দেশজুড়ে। প্রতিবছর আশ্বিন মাস থেকে শুরু হয় এই তালপাখা তৈরির কাজ। চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত চলে বিক্রি। এবার গতবারের চেয়ে অন্তত কয়েক লাখ পাখা বেশি বিক্রির আশা করছেন কারিগরেরা।
বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নে পাশাপাশি এই তিন গ্রামের অবস্থান। গ্রামের নারী-পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সবাই অবসর সময়ে তালপাখা তৈরির কাজ করেন। বংশপরম্পরায় এই তিন গ্রামের মানুষ তালপতার পাখা বানিয়ে আসছে বলে জানান সেখানকার বাসিন্দারা। জলবায়ুর পরিবর্তন, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে যত দিন যাচ্ছে, বাড়ছে পাখার চাহিদা। সেই সঙ্গে বাড়ছে পাখা তৈরির কাজের পরিধি।
আড়োলা গ্রামের আকরাম আকন্দ জানান, দাদার আমল থেকে তাঁরা তালের পাতা দিয়ে হাতপাখা তৈরির কাজ করে আসছেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি এ কাজ করেন তিনি। তাঁর স্ত্রীও সংসারের কাজের ফাঁকে রঙিন নকশা করে তালপাখার সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ করেন।
আকরাম আকন্দ বলেন, গত বছর তিনি পাখা বিক্রি করে সংসার খরচ বাদেই এক লাখ টাকা সঞ্চয় করেছেন। গত বছর তিন গ্রাম থেকে ১৫ লাখ তালপাখা বিক্রি হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এবার চাহিদা বাড়ায় তিন গ্রাম থেকে ২০ লাখ পাখা বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
তালগাছের পাতা (স্থানীয় ভাষায় তালের ডাগুর) দিয়ে তিন ধরনের পাখা তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে নাম দেওয়া হয়েছে পকেট পাখা, ঘুরানী পাখা এবং ডাগুর পাখা। পাখা বানাতে তালের পাতা ছাড়াও বাঁশ, সুতা এবং লোহার তার প্রয়োজন হয়। তারপর নানা রঙের ছোঁয়ায় দেখতে আকর্ষণীয় করে তোলা হয় হাতপাখাগুলো। ১০ টাকায় কেনা তালগাছের একটি পাতা বা ডাগুর দিয়ে তৈরি হয় দুটি বড় পাখা বা ডাগুর পাখা, চারটি ঘুরানী পাখা এবং ছয়টি পকেট পাখা।
বছরের আশ্বিন মাস থেকে শুরু হয় বাঁশ এবং তালপাতা সংগ্রহের কাজ। এরপর বাঁশ ছোট ছোট আকারে কাটতে হয়। তালপাতাও কেটে পাখা তৈরির উপযোগী করা হয়। ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে পাখা তৈরির কাজ। চৈত্র মাসের শুরু থেকে পাখার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বাহারি রং করে বিক্রয় উপযোগী করা হয়। দেশের ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপারীরা আসেন তালপাতার পাখা কিনতে।
যোগীর ভবন গ্রামের মামুনুর রশিদ বলেন, তিনি প্রতিবছর ১৭ থেকে ১৮ হাজার ডাগুর পাখা তৈরি করেন। এই পাখা বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়।
গত বছরের তুলনায় এ বছর পাখার চাহিদা বেশি বলে উল্লেখ করে মামুনুর রশিদ বলেন, একটি তালপাতা বা ডাগুরের দাম ১০ টাকা হলেও বাঁশ ও রঙের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে খরচও বেড়ে গেছে।
আতাইলপাড়া গ্রামের পারভীন, মর্জিনা, আবেদা, হালিমা জানান, তাঁরা বছরের ছয় মাস প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি করে হাতপাখা তৈরি করে বিক্রি করেন। সংসারের কাজের ফাঁকে হাতপাখা তৈরির কাজ করে তাঁরা বাড়তি আয় করছেন বছরের পর বছর ধরে।
হাতপাখার তিন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পকেট পাখা ১১ টাকা, ঘুরানী পাখা ২০ টাকা এবং ডাগুর পাখা ৩০ টাকা দরে ব্যাপারীরা পাইকারি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা আবার বিভিন্ন মেলা কিংবা হাট-বাজারে খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করছেন।
গরমের সময় বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় হাতপাখার চাহিদা প্রতিবছরই বাড়ছে বলে জানান পাখা কিনতে আসা ব্যাপারী আজগর আলী। তিনি বলেন, শহর এবং গ্রামে তীব্র গরম থেকে একটু প্রশান্তি পেতে ধনী-দরিদ্র সব পরিবারেই হাতপাখার ব্যবহার যুগ যুগ ধরে।
বগুড়ার কাহালু উপজেলার আড়োলা, যোগীর ভবন ও আতাইলপাড়া গ্রামের তালপাতার তৈরি হাতপাখার খ্যাতি দেশজুড়ে। প্রতিবছর আশ্বিন মাস থেকে শুরু হয় এই তালপাখা তৈরির কাজ। চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত চলে বিক্রি। এবার গতবারের চেয়ে অন্তত কয়েক লাখ পাখা বেশি বিক্রির আশা করছেন কারিগরেরা।
বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নে পাশাপাশি এই তিন গ্রামের অবস্থান। গ্রামের নারী-পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সবাই অবসর সময়ে তালপাখা তৈরির কাজ করেন। বংশপরম্পরায় এই তিন গ্রামের মানুষ তালপতার পাখা বানিয়ে আসছে বলে জানান সেখানকার বাসিন্দারা। জলবায়ুর পরিবর্তন, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে যত দিন যাচ্ছে, বাড়ছে পাখার চাহিদা। সেই সঙ্গে বাড়ছে পাখা তৈরির কাজের পরিধি।
আড়োলা গ্রামের আকরাম আকন্দ জানান, দাদার আমল থেকে তাঁরা তালের পাতা দিয়ে হাতপাখা তৈরির কাজ করে আসছেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি এ কাজ করেন তিনি। তাঁর স্ত্রীও সংসারের কাজের ফাঁকে রঙিন নকশা করে তালপাখার সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ করেন।
আকরাম আকন্দ বলেন, গত বছর তিনি পাখা বিক্রি করে সংসার খরচ বাদেই এক লাখ টাকা সঞ্চয় করেছেন। গত বছর তিন গ্রাম থেকে ১৫ লাখ তালপাখা বিক্রি হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এবার চাহিদা বাড়ায় তিন গ্রাম থেকে ২০ লাখ পাখা বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
তালগাছের পাতা (স্থানীয় ভাষায় তালের ডাগুর) দিয়ে তিন ধরনের পাখা তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে নাম দেওয়া হয়েছে পকেট পাখা, ঘুরানী পাখা এবং ডাগুর পাখা। পাখা বানাতে তালের পাতা ছাড়াও বাঁশ, সুতা এবং লোহার তার প্রয়োজন হয়। তারপর নানা রঙের ছোঁয়ায় দেখতে আকর্ষণীয় করে তোলা হয় হাতপাখাগুলো। ১০ টাকায় কেনা তালগাছের একটি পাতা বা ডাগুর দিয়ে তৈরি হয় দুটি বড় পাখা বা ডাগুর পাখা, চারটি ঘুরানী পাখা এবং ছয়টি পকেট পাখা।
বছরের আশ্বিন মাস থেকে শুরু হয় বাঁশ এবং তালপাতা সংগ্রহের কাজ। এরপর বাঁশ ছোট ছোট আকারে কাটতে হয়। তালপাতাও কেটে পাখা তৈরির উপযোগী করা হয়। ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে পাখা তৈরির কাজ। চৈত্র মাসের শুরু থেকে পাখার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বাহারি রং করে বিক্রয় উপযোগী করা হয়। দেশের ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপারীরা আসেন তালপাতার পাখা কিনতে।
যোগীর ভবন গ্রামের মামুনুর রশিদ বলেন, তিনি প্রতিবছর ১৭ থেকে ১৮ হাজার ডাগুর পাখা তৈরি করেন। এই পাখা বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়।
গত বছরের তুলনায় এ বছর পাখার চাহিদা বেশি বলে উল্লেখ করে মামুনুর রশিদ বলেন, একটি তালপাতা বা ডাগুরের দাম ১০ টাকা হলেও বাঁশ ও রঙের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে খরচও বেড়ে গেছে।
আতাইলপাড়া গ্রামের পারভীন, মর্জিনা, আবেদা, হালিমা জানান, তাঁরা বছরের ছয় মাস প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি করে হাতপাখা তৈরি করে বিক্রি করেন। সংসারের কাজের ফাঁকে হাতপাখা তৈরির কাজ করে তাঁরা বাড়তি আয় করছেন বছরের পর বছর ধরে।
হাতপাখার তিন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পকেট পাখা ১১ টাকা, ঘুরানী পাখা ২০ টাকা এবং ডাগুর পাখা ৩০ টাকা দরে ব্যাপারীরা পাইকারি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা আবার বিভিন্ন মেলা কিংবা হাট-বাজারে খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করছেন।
গরমের সময় বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় হাতপাখার চাহিদা প্রতিবছরই বাড়ছে বলে জানান পাখা কিনতে আসা ব্যাপারী আজগর আলী। তিনি বলেন, শহর এবং গ্রামে তীব্র গরম থেকে একটু প্রশান্তি পেতে ধনী-দরিদ্র সব পরিবারেই হাতপাখার ব্যবহার যুগ যুগ ধরে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেছেন বিএনপি নেতা। সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যায় বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচার করার অভিযোগে গাজীপুর আদালতে এ মামলা করেছেন তিনি।
১৮ দিন আগেলক্ষ্মীপুরে রামগতিতে নৌকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ফারুক হোসেন (৪০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন দুজন। এখনো চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন আরও দুজন। আজ মঙ্গলবার ভোরে জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুক হোসেন মারা যান।
১৮ দিন আগেদুই বছর আগে ফেনী পৌরসভার সুমাইয়া হোসেন আনিকা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সিং ও গ্রাফিক ডিজাইনের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন অনলাইন প্রতিষ্ঠানে চাকরির চেষ্টা করেও সফল হননি। এখন স্বামীর অনলাইন ব্যবসা দেখাশোনা করছেন। আনিকা বলেন, ‘প্রশিক্ষণ পেয়েছি, কিন্তু কাজের সুযোগ খুবই কম।’ আনিকার
১৮ দিন আগেচট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলন দমাতে টাকা দাবির ভিডিও ভাইরালের পর এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম নগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিনকে কেন্দ্র থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তাঁর লিখিত ব্যাখা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দলকে জানানো কথা বলা হয়েছে।
১৮ দিন আগে