খুলনা প্রতিনিধি
নিজ বাসার নিচ থেকে চার-পাঁচজন তাঁর মুখে কাপড় বেঁধে অপহরণ করে বলে দাবি করেছেন খুলনার রহিমা বেগম (৫২)। স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ ইনভেস্টিগেশন অব বাংলাদেশ (পিবিআই) খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান।
নিখোঁজের প্রায় এক মাস পর গতকাল শনিবার রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে খুলনা মহানগর পুলিশ। আজ রোববার তাঁকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বেলা ১টার দিকে সন্তানের মুখোমুখি করা হয় রহিমা বেগমকে। পুলিশ সুপার বলেন, ‘শনিবার ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রাম থেকে উদ্ধারের পর থেকে কোনো কথাই বলছিলেন না রহিমা বেগম। বেলা ১টার দিকে তাঁর সন্তানের মুখোমুখি আনা হয়। পরে তিনি অপহৃত হয়েছিলেন বলে দাবি করেন।’
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ‘রহিমা বেগমকে অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন। জমিজমার বিরোধ থাকা কিবরিয়া, মহিউদ্দিনসহ কয়েক ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন ও বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাঁকে ১ হাজার টাকা দিয়ে ছেড়ে দেন।’
‘রহিমা বেগমের দাবি, ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি কিছুই চিনতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে গোপালগঞ্জের মুকসেদপুর হয়ে পূর্বপরিচিত ভাড়াটিয়ার ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে যান। কিন্তু তাঁর কাছে কোনো মোবাইল নম্বর না থাকায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।’
পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা রহিমা বেগমের বক্তব্য যাচাই-বাছাই করছি। তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী সবকিছু করা হবে।’ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাঁকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়নি।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুলনা মহানগর পুলিশ গতকাল রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানাধীন সৈয়দপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাঁকে খুলনায় আনা হয়। আমরা রহিমা বেগমকে আজ সকাল ১১টার দিকে রিসিভ করি। আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিন্তু তিনি উদ্ধারের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কথা বলছেন না। তাঁকে একটু নার্ভাস মনে হচ্ছে। তবে রহিমা বেগম সুস্থ আছেন। আমরা আশা করছি, যে কোনো একটা পর্যায়ে তাঁর থেকে সম্পূর্ণ ঘটনা এবং রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হব।’
তিনি এত দিন কোথায় ছিলেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পিবিআই এসপি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি নিখোঁজ হওয়ার পরে তিনি প্রথমে কয়েক দিন বান্দরবান ছিলেন। তারপর চট্টগ্রামে ছিলেন। এরপর মুকসুদপুর হয়ে তিনি ফরিদপুর আব্দুল কুদ্দুসের বাড়িতে যান। ওই বাড়িতে কীভাবে গেলেন এমন প্রশ্ন আসতে পারে। রহিমা বেগম মহেশ্বরপাশার যে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন, ওখানে ২৮ বছর আগে আব্দুল কুদ্দুস ভাড়া থাকতেন। তিনি সোনালি জুট মিলে চাকরি করতেন, সেই সুবাদে তার সঙ্গে রহিমা বেগমের পরিচয় ছিল। সেই সুবাদে তিনি কুদ্দুসের বাড়ি খুঁজে বের করেন এবং ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে উদ্ধার করার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন।’
পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনো তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে ওনার (রহিমা) কাছ থেকে সাদা রঙের একটি শপিং ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে। যার মধ্যে ওড়না, হিজাব, আয়না, শাড়ি, ওষুধ, সালোয়ার-কামিজসহ পরিধেয় জিনিস ছিল। স্বাভাবিকভাবে একজনকে অপহরণ করে নিয়ে গেলে এগুলো থাকার কথা নয়। তারপরও আমরা মামলার তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে আপনাদের বিস্তারিত তথ্য দিতে পারব। তবে আপাতত দৃষ্টিতে অপহরণ নাও হতে পারে।’
এসপি বলেন, ‘এর আগে ওনার প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় বিরোধ আছে। সেই বিরোধকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটছে কি না সেটা আমরা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তদন্ত করছি, তদন্ত শেষে প্রতিবেদন যখন আদালতে দাখিল করব তখন বিস্তারিত আপনাদের জানাতে পারব।’
রহিমা বেগমকে অপহরণের অভিযোগে আগে গ্রেপ্তার ছয়জনের ব্যাপারে এসপি বলেন, ‘আমরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করেছি। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করব, তাঁরা এই মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে নাকি সকলে নিরপরাধ এটা তদন্ত শেষে বলা যাবে।’
রহিমা বেগমের সঙ্গে ফরিদপুর থেকে আনা তিনজন দৌলতপুর থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পিবিআই তাঁদের এখনো রিসিভ করেনি। রিসিভ করার পর তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান।
আরও পড়ুন:
নিজ বাসার নিচ থেকে চার-পাঁচজন তাঁর মুখে কাপড় বেঁধে অপহরণ করে বলে দাবি করেছেন খুলনার রহিমা বেগম (৫২)। স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ ইনভেস্টিগেশন অব বাংলাদেশ (পিবিআই) খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান।
নিখোঁজের প্রায় এক মাস পর গতকাল শনিবার রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে খুলনা মহানগর পুলিশ। আজ রোববার তাঁকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বেলা ১টার দিকে সন্তানের মুখোমুখি করা হয় রহিমা বেগমকে। পুলিশ সুপার বলেন, ‘শনিবার ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রাম থেকে উদ্ধারের পর থেকে কোনো কথাই বলছিলেন না রহিমা বেগম। বেলা ১টার দিকে তাঁর সন্তানের মুখোমুখি আনা হয়। পরে তিনি অপহৃত হয়েছিলেন বলে দাবি করেন।’
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ‘রহিমা বেগমকে অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন। জমিজমার বিরোধ থাকা কিবরিয়া, মহিউদ্দিনসহ কয়েক ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন ও বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাঁকে ১ হাজার টাকা দিয়ে ছেড়ে দেন।’
‘রহিমা বেগমের দাবি, ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি কিছুই চিনতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে গোপালগঞ্জের মুকসেদপুর হয়ে পূর্বপরিচিত ভাড়াটিয়ার ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে যান। কিন্তু তাঁর কাছে কোনো মোবাইল নম্বর না থাকায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।’
পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা রহিমা বেগমের বক্তব্য যাচাই-বাছাই করছি। তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী সবকিছু করা হবে।’ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাঁকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়নি।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুলনা মহানগর পুলিশ গতকাল রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানাধীন সৈয়দপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাঁকে খুলনায় আনা হয়। আমরা রহিমা বেগমকে আজ সকাল ১১টার দিকে রিসিভ করি। আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিন্তু তিনি উদ্ধারের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কথা বলছেন না। তাঁকে একটু নার্ভাস মনে হচ্ছে। তবে রহিমা বেগম সুস্থ আছেন। আমরা আশা করছি, যে কোনো একটা পর্যায়ে তাঁর থেকে সম্পূর্ণ ঘটনা এবং রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হব।’
তিনি এত দিন কোথায় ছিলেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পিবিআই এসপি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি নিখোঁজ হওয়ার পরে তিনি প্রথমে কয়েক দিন বান্দরবান ছিলেন। তারপর চট্টগ্রামে ছিলেন। এরপর মুকসুদপুর হয়ে তিনি ফরিদপুর আব্দুল কুদ্দুসের বাড়িতে যান। ওই বাড়িতে কীভাবে গেলেন এমন প্রশ্ন আসতে পারে। রহিমা বেগম মহেশ্বরপাশার যে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন, ওখানে ২৮ বছর আগে আব্দুল কুদ্দুস ভাড়া থাকতেন। তিনি সোনালি জুট মিলে চাকরি করতেন, সেই সুবাদে তার সঙ্গে রহিমা বেগমের পরিচয় ছিল। সেই সুবাদে তিনি কুদ্দুসের বাড়ি খুঁজে বের করেন এবং ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে উদ্ধার করার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন।’
পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনো তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে ওনার (রহিমা) কাছ থেকে সাদা রঙের একটি শপিং ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে। যার মধ্যে ওড়না, হিজাব, আয়না, শাড়ি, ওষুধ, সালোয়ার-কামিজসহ পরিধেয় জিনিস ছিল। স্বাভাবিকভাবে একজনকে অপহরণ করে নিয়ে গেলে এগুলো থাকার কথা নয়। তারপরও আমরা মামলার তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে আপনাদের বিস্তারিত তথ্য দিতে পারব। তবে আপাতত দৃষ্টিতে অপহরণ নাও হতে পারে।’
এসপি বলেন, ‘এর আগে ওনার প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় বিরোধ আছে। সেই বিরোধকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটছে কি না সেটা আমরা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তদন্ত করছি, তদন্ত শেষে প্রতিবেদন যখন আদালতে দাখিল করব তখন বিস্তারিত আপনাদের জানাতে পারব।’
রহিমা বেগমকে অপহরণের অভিযোগে আগে গ্রেপ্তার ছয়জনের ব্যাপারে এসপি বলেন, ‘আমরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করেছি। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করব, তাঁরা এই মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে নাকি সকলে নিরপরাধ এটা তদন্ত শেষে বলা যাবে।’
রহিমা বেগমের সঙ্গে ফরিদপুর থেকে আনা তিনজন দৌলতপুর থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পিবিআই তাঁদের এখনো রিসিভ করেনি। রিসিভ করার পর তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান।
আরও পড়ুন:
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেছেন বিএনপি নেতা। সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যায় বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচার করার অভিযোগে গাজীপুর আদালতে এ মামলা করেছেন তিনি।
১৮ দিন আগেলক্ষ্মীপুরে রামগতিতে নৌকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ফারুক হোসেন (৪০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন দুজন। এখনো চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন আরও দুজন। আজ মঙ্গলবার ভোরে জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুক হোসেন মারা যান।
১৮ দিন আগেদুই বছর আগে ফেনী পৌরসভার সুমাইয়া হোসেন আনিকা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সিং ও গ্রাফিক ডিজাইনের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন অনলাইন প্রতিষ্ঠানে চাকরির চেষ্টা করেও সফল হননি। এখন স্বামীর অনলাইন ব্যবসা দেখাশোনা করছেন। আনিকা বলেন, ‘প্রশিক্ষণ পেয়েছি, কিন্তু কাজের সুযোগ খুবই কম।’ আনিকার
১৮ দিন আগেচট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলন দমাতে টাকা দাবির ভিডিও ভাইরালের পর এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম নগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিনকে কেন্দ্র থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তাঁর লিখিত ব্যাখা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দলকে জানানো কথা বলা হয়েছে।
১৮ দিন আগে