Ajker Patrika

ফরিদপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন, রায়ে অসন্তুষ্ট স্বজনেরা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের পর পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

আজ সোমবার দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েল মণ্ডলকে (৪৬) কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি জেলা সদরের মাচ্চর ইউনিয়নের পরানপুরের বাসিন্দা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মলিনা বেগমকে (২০) নির্যাতন ও গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যায়। এ ঘটনায় ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন নিহতের বাবা কানাইপুর ইউনিয়নের শোলাকুণ্ডু গ্রামের আব্দুর রহমান খান।

এ মামলায় একই বছরের ১৩ জুলাই তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুনীল কুমার কর্মকার। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ ও শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণায় দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, ‘এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে সন্তুষ্ট প্রকাশ করছি। সমাজে যৌতুকের জন্য যেন কারও প্রাণ দিতে না হয়, সে জন্য আদালত ন্যায়বিচারে এ রায় দিয়েছেন।’

তবে রায় ঘোষণার পর সঠিক বিচার না পাওয়ার দাবি করে আদালতের বারান্দায় আহাজারি করেছেন নিহতের মা জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে পুড়িয়ে মারা হলো। ১৪ বছর তাঁর তিন সন্তান নিয়ে বিচারের আশায় দৌড়ালাম। কিন্তু আজ কী বিচার পেলাম, কয় দিন পর তো বের হয়ে যাবে। এ রায় আমি মানি না। আমি সবার ফাঁসি চাই।’

এ সময় নিহতের যমজ ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া আলিফ (১৭) ও তালিফ মণ্ডল (১৭) উপস্থিত ছিল। মায়ের হত্যার সঠিক বিচার না পাওয়ার দাবি করে মায়ের ছবি হাতে তারা কান্নায় ভেঙে পড়ে। তারাও বাবার ফাঁসি দাবি করে। মায়ের মৃত্যুর সময় দুই ভাইয়ের বয়স ছিল তিন বছর। এ ছাড়া রিয়া নামের বড় বোনের বয়স ছিল ৫ বছর। বর্তমানে তিনি বিবাহিত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত