ফজলুল কবির, ঢাকা
বাবুবাজার ব্রিজের সামনে বেজায় ভিড়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, মোটরসাইকেল সব বেশ কসরত করে চলছে। অবশ্য পুরান ঢাকার অলিগলিতে এটা রোজকার দৃশ্য। একটু আগেই বৃষ্টি হয়েছে। প্যাচপেচে না হলেও কাদাজল আছে রাস্তায়। যেতে হবে অনেকটা পথ। তাই জ্যামের শহরে মোটরসাইকেলই ভরসা। পাওয়াও গেল। কিন্তু স্টার্ট দিতেই বিপত্তি। সামনে থাকা রিকশার পেছনে গিয়ে লাগল। মুহূর্তও লাগেনি। রিকশাচালক বেশ রাগত কণ্ঠে বললেন, ‘আপনে দেখেন নাই হ্যান্ডেলে হাত রাইখা আমি জিরাইতেছিলাম? ধাক্কা দিলেন। ইঞ্জিন থাকলে আর কিছু চোখে লাগে না। এইটা গ্রাম না। এমনে তো শহরে টিকতে পারবেন না।’
রিকশাচালক যখন এই ঝাঁজ ঝাড়ছিলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে মনে দমে যেতে হচ্ছিল এই ভেবে যে, এই যানজটের শহরে যা-ও একটি দুই চাকার মোটরচালিত পঙ্খিরাজ পাওয়া গেল, তা-ও না ছুটে যায়। কারণ, বাইকারেরা সাধারণত রিকশাচালকের দিক থেকে এহেন তর্ক সহ্য করতে পারেন না। মুহূর্তেই এসব তর্ক তাণ্ডবে পরিণত হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে হলো না; বরং বাইকারকে দেখা গেল বেশ নরম হয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বেরিয়ে আসতে। এই দৃশ্য ভাবনায় হাওয়া দেয়।
এমন নয় যে, এমন দৃশ্য ঢাকার রাস্তায় এটাই প্রথম। এমন দৃশ্য এর আগেও নজরে পড়েছে। কিন্তু এতটা কাছাকাছি নয়। আর এই বাংলাদেশে কোনো কিছুর সঙ্গে নিজে বা ঘনিষ্ঠ কেউ যুক্ত না হলে, কাকের মতো চোখ বুজে থাকা যায় অনায়াসে। সেহেতু এত দিন এমন বা এর কাছাকাছি দৃশ্য চোখে পড়লেও ভাবনায় তেমন টোকা লাগেনি। এবার লাগল। মনে হলো, রাস্তায় চলাচলকারী মানুষ ও বিভিন্ন বাহনের শ্রেণি-অবস্থানের কি কোনো বড় ধরনের ওলটপালট হলো?
একটু খুলে বলা যাক। ঢাকার রাস্তায় মোটরসাইকেল চালকদের কলার উঁচিয়ে চলাই এত দিন দস্তুর ছিল। ফুটপাত বা রাস্তার রং সাইড দিয়েই হোক ইচ্ছেমতো চলাচল করাই যেন রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ ক্ষেত্রে বিশেষত রিকশাচালকেরা বা দেখে নিম্নবিত্ত মনে হয় এমন লোকজন তাঁদের সঙ্গে কোনো তর্ক জুড়লে বেশ ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতো। কিন্তু এখন হরহামেশাই দেখা যায় উল্টো চিত্র। রিকশাচালকদেরই বরং বাইকারদের বকাঝকা করতে দেখা যায় মাঝেমধ্যে। জবাবে বাইকারদের আগের মতো তেড়েফুঁড়ে আসার সেই চলটি যেন আর নেই।
না রিকশাচালকদের তাই বলে কোনো শ্রেণি-উত্তরণ ঘটেনি; বরং যানবাহন হিসেবে বাইকের কিছুটা অবনমন হয়েছে বলা যায়। এর কারণ উবার, পাঠাওয়ের হাত ধরে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধি। রিকশাচালকেরা একজন বাইকারকে আর একটি মোটরচালিত বাহনের মালিক বা উচ্চবিত্ত বা উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য হিসেবে নয়, ভাড়ায়চালিত একটি বাহনের চালক হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে তাঁরা এই মানুষদের নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ঠাওরাচ্ছেন। ফলে রাস্তায় তাঁদের ছোটখাটো ভুলও আর মার্জনীয় নয়।
যেকোনো শহরের রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের যেমন, তেমনি যানবাহনেরও থাকে একটি শ্রেণি-অবস্থান। সেই শ্রেণি-অবস্থানে একটা বড় বদল কিন্তু এরই মধ্যে হয়ে গেছে সবার অলক্ষ্যে। এই বদলের কারণেই এখন অনায়াসে একজন বাইকারকে রাগী স্বরে শহরে চলার পাঠ দিতে পারছেন একজন রিকশাচালক।
বাবুবাজার ব্রিজের সামনে বেজায় ভিড়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, মোটরসাইকেল সব বেশ কসরত করে চলছে। অবশ্য পুরান ঢাকার অলিগলিতে এটা রোজকার দৃশ্য। একটু আগেই বৃষ্টি হয়েছে। প্যাচপেচে না হলেও কাদাজল আছে রাস্তায়। যেতে হবে অনেকটা পথ। তাই জ্যামের শহরে মোটরসাইকেলই ভরসা। পাওয়াও গেল। কিন্তু স্টার্ট দিতেই বিপত্তি। সামনে থাকা রিকশার পেছনে গিয়ে লাগল। মুহূর্তও লাগেনি। রিকশাচালক বেশ রাগত কণ্ঠে বললেন, ‘আপনে দেখেন নাই হ্যান্ডেলে হাত রাইখা আমি জিরাইতেছিলাম? ধাক্কা দিলেন। ইঞ্জিন থাকলে আর কিছু চোখে লাগে না। এইটা গ্রাম না। এমনে তো শহরে টিকতে পারবেন না।’
রিকশাচালক যখন এই ঝাঁজ ঝাড়ছিলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে মনে দমে যেতে হচ্ছিল এই ভেবে যে, এই যানজটের শহরে যা-ও একটি দুই চাকার মোটরচালিত পঙ্খিরাজ পাওয়া গেল, তা-ও না ছুটে যায়। কারণ, বাইকারেরা সাধারণত রিকশাচালকের দিক থেকে এহেন তর্ক সহ্য করতে পারেন না। মুহূর্তেই এসব তর্ক তাণ্ডবে পরিণত হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে হলো না; বরং বাইকারকে দেখা গেল বেশ নরম হয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বেরিয়ে আসতে। এই দৃশ্য ভাবনায় হাওয়া দেয়।
এমন নয় যে, এমন দৃশ্য ঢাকার রাস্তায় এটাই প্রথম। এমন দৃশ্য এর আগেও নজরে পড়েছে। কিন্তু এতটা কাছাকাছি নয়। আর এই বাংলাদেশে কোনো কিছুর সঙ্গে নিজে বা ঘনিষ্ঠ কেউ যুক্ত না হলে, কাকের মতো চোখ বুজে থাকা যায় অনায়াসে। সেহেতু এত দিন এমন বা এর কাছাকাছি দৃশ্য চোখে পড়লেও ভাবনায় তেমন টোকা লাগেনি। এবার লাগল। মনে হলো, রাস্তায় চলাচলকারী মানুষ ও বিভিন্ন বাহনের শ্রেণি-অবস্থানের কি কোনো বড় ধরনের ওলটপালট হলো?
একটু খুলে বলা যাক। ঢাকার রাস্তায় মোটরসাইকেল চালকদের কলার উঁচিয়ে চলাই এত দিন দস্তুর ছিল। ফুটপাত বা রাস্তার রং সাইড দিয়েই হোক ইচ্ছেমতো চলাচল করাই যেন রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ ক্ষেত্রে বিশেষত রিকশাচালকেরা বা দেখে নিম্নবিত্ত মনে হয় এমন লোকজন তাঁদের সঙ্গে কোনো তর্ক জুড়লে বেশ ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতো। কিন্তু এখন হরহামেশাই দেখা যায় উল্টো চিত্র। রিকশাচালকদেরই বরং বাইকারদের বকাঝকা করতে দেখা যায় মাঝেমধ্যে। জবাবে বাইকারদের আগের মতো তেড়েফুঁড়ে আসার সেই চলটি যেন আর নেই।
না রিকশাচালকদের তাই বলে কোনো শ্রেণি-উত্তরণ ঘটেনি; বরং যানবাহন হিসেবে বাইকের কিছুটা অবনমন হয়েছে বলা যায়। এর কারণ উবার, পাঠাওয়ের হাত ধরে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধি। রিকশাচালকেরা একজন বাইকারকে আর একটি মোটরচালিত বাহনের মালিক বা উচ্চবিত্ত বা উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য হিসেবে নয়, ভাড়ায়চালিত একটি বাহনের চালক হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে তাঁরা এই মানুষদের নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ঠাওরাচ্ছেন। ফলে রাস্তায় তাঁদের ছোটখাটো ভুলও আর মার্জনীয় নয়।
যেকোনো শহরের রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের যেমন, তেমনি যানবাহনেরও থাকে একটি শ্রেণি-অবস্থান। সেই শ্রেণি-অবস্থানে একটা বড় বদল কিন্তু এরই মধ্যে হয়ে গেছে সবার অলক্ষ্যে। এই বদলের কারণেই এখন অনায়াসে একজন বাইকারকে রাগী স্বরে শহরে চলার পাঠ দিতে পারছেন একজন রিকশাচালক।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেছেন বিএনপি নেতা। সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যায় বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচার করার অভিযোগে গাজীপুর আদালতে এ মামলা করেছেন তিনি।
১৮ দিন আগেলক্ষ্মীপুরে রামগতিতে নৌকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ফারুক হোসেন (৪০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন দুজন। এখনো চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন আরও দুজন। আজ মঙ্গলবার ভোরে জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুক হোসেন মারা যান।
১৮ দিন আগেদুই বছর আগে ফেনী পৌরসভার সুমাইয়া হোসেন আনিকা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সিং ও গ্রাফিক ডিজাইনের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন অনলাইন প্রতিষ্ঠানে চাকরির চেষ্টা করেও সফল হননি। এখন স্বামীর অনলাইন ব্যবসা দেখাশোনা করছেন। আনিকা বলেন, ‘প্রশিক্ষণ পেয়েছি, কিন্তু কাজের সুযোগ খুবই কম।’ আনিকার
১৮ দিন আগেচট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলন দমাতে টাকা দাবির ভিডিও ভাইরালের পর এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম নগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিনকে কেন্দ্র থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তাঁর লিখিত ব্যাখা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দলকে জানানো কথা বলা হয়েছে।
১৮ দিন আগে