থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে কোমরতাঁতে বোনা কাপড় খুবই জনপ্রিয়। আর এ কাপড় বোনেন পাহাড়ি নারীরা। তবে আধুনিক বয়নশিল্পের প্রভাব এবং সুতাসহ কাঁচামালের দাম বাড়ায় এখন আর পোষাতে পারছেন না তাঁরা। সরকারের পক্ষ থেকেও নেই এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার কোনো উদ্যোগ। তাই হারাতে বসেছে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প।
পাহাড়ি জনপদে বড় কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান নেই। কৃষিকাজই সেখানকার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস। পাহাড়ি নারীরা ঘরের কাজের পাশাপাশি কৃষিকাজ করেন। মূলত তাঁরা জুমচাষে নির্ভরশীল। তা ছাড়া অবসর সময়ে নারীরা কোমরতাঁতে বোনেন কাপড়।
কাঠ ও বাঁশের কাঠি দিয়ে বিশেষ কায়দায় কোমরের সঙ্গে বেঁধে তাঁতে কাপড় বোনা হয় বলে একে কোমরতাঁত বলা হয়। শত শত বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নারীরা নিজেদের কাপড় নিজেরাই বুনতেন কোমরতাঁতে। একটা সময় পাহাড়ি নারীদের বিয়ের যোগ্যতা হিসেবে কোমরতাঁত বোনা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় সে ঐতিহ্য এখন আর নেই। প্রায় বিলুপ্তির পথে কোমরতাঁত।
বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলীপাড়া ইউনিয়নের বাগানপাড়ায় সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, মেছো (৪৫) নামের এক নারী কোমরতাঁতে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী পোছো (শীতের কম্বল) বুনছেন। তিনি বলেন, ‘মায়ের কাছ থেকে শিখে ৩০ বছর আগে কাজ শুরু করি। তখন শরৎ-হেমন্ত কালে ঘরে ঘরে কোমরতাঁতে বোনা হতো কম্বল, চাদরসহ বিভিন্ন রকমের কাপড়।’ শীতের কম্বল কাজ শেষ হতে প্রায় তিন-চার দিন সময় লাগে। নিজের প্রয়োজনের বাইরেও কেউ অর্ডার দিলে অর্থের বিনিময়ে করে দিই। তবে আজকালকার অনেক মেয়ে কোমরতাঁতে কাপড় বুনতেও পারে না।’
কোমরতাঁতশিল্পী হেলেনা ত্রিপুরা (৪০) বলেন, ‘কোমরতাঁতে বা উঠান তাঁতে যে পণ্যগুলো তৈরি হয়, স্থানীয়ভাবে বাজারজাত করার কোনো সুযোগ নেই। সরকারিভাবে যদি উদ্যোগ নিয়ে বিপণনের ব্যবস্থা করা না হয়, তবে এই তাঁত হারিয়ে যাবে।’ দশকের পর দশক ধরেই পাহাড়ি নারীরা এ পেশায় যুক্ত। পুরুষের পাশাপাশি সংসারের ব্যয় ও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ এই তাঁত থেকেই আসে বলে জানান তিনি।
ষাটোর্ধ্ব ঞোওয়ে নামে এক প্রবীণ কোমরতাঁতশিল্পী বলেন, ‘এটি আমাদের পাহাড়ের ঐতিহ্য। যুগ যুগ ধরে আমরা কাপড় বুনন করে আসছি কোমরতাঁত দিয়ে। কিন্তু এখন বাজার থেকে সুতা কিনে কাপড় তৈরি করব, সেই সামর্থ্য নেই। সুতার দাম বাড়তি, তাই সরকার যদি সুতার দাম কমায়, তাহলে আমরা খুবই উপকৃত হব।’
থানচি সদর ইউনিয়নের আমতলীপাড়া বাসিন্দা য়ইহ্লাচিং মারমা (৬০) বলেন, ‘কোমরতাঁতে একটি চাদর তৈরিতে বর্তমানে ১ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়। সময় লাগে অন্তত ৭ দিন। শ্রম মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু বিক্রি করতে গেলে সর্বোচ্চ পাওয়া যায় ২ হাজার টাকা। কখনো কখনো দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়ও বিক্রি করতে হয়। খরচের চেয়ে দাম কম পাওয়ায় এ শিল্প হারাতে বসেছে।’
যোগাযোগ করা হলে বান্দরবান জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুপন চাকমা বলেন, ‘জেলায় কোমরতাঁতের একটি বিপণনকেন্দ্র রয়েছে কুটির শিল্প নামে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত কোনো প্রকার সরকারি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়নি। কোমরতাঁত নিয়ে নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানাব।’
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে কোমরতাঁতে বোনা কাপড় খুবই জনপ্রিয়। আর এ কাপড় বোনেন পাহাড়ি নারীরা। তবে আধুনিক বয়নশিল্পের প্রভাব এবং সুতাসহ কাঁচামালের দাম বাড়ায় এখন আর পোষাতে পারছেন না তাঁরা। সরকারের পক্ষ থেকেও নেই এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার কোনো উদ্যোগ। তাই হারাতে বসেছে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প।
পাহাড়ি জনপদে বড় কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান নেই। কৃষিকাজই সেখানকার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস। পাহাড়ি নারীরা ঘরের কাজের পাশাপাশি কৃষিকাজ করেন। মূলত তাঁরা জুমচাষে নির্ভরশীল। তা ছাড়া অবসর সময়ে নারীরা কোমরতাঁতে বোনেন কাপড়।
কাঠ ও বাঁশের কাঠি দিয়ে বিশেষ কায়দায় কোমরের সঙ্গে বেঁধে তাঁতে কাপড় বোনা হয় বলে একে কোমরতাঁত বলা হয়। শত শত বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নারীরা নিজেদের কাপড় নিজেরাই বুনতেন কোমরতাঁতে। একটা সময় পাহাড়ি নারীদের বিয়ের যোগ্যতা হিসেবে কোমরতাঁত বোনা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় সে ঐতিহ্য এখন আর নেই। প্রায় বিলুপ্তির পথে কোমরতাঁত।
বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলীপাড়া ইউনিয়নের বাগানপাড়ায় সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, মেছো (৪৫) নামের এক নারী কোমরতাঁতে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী পোছো (শীতের কম্বল) বুনছেন। তিনি বলেন, ‘মায়ের কাছ থেকে শিখে ৩০ বছর আগে কাজ শুরু করি। তখন শরৎ-হেমন্ত কালে ঘরে ঘরে কোমরতাঁতে বোনা হতো কম্বল, চাদরসহ বিভিন্ন রকমের কাপড়।’ শীতের কম্বল কাজ শেষ হতে প্রায় তিন-চার দিন সময় লাগে। নিজের প্রয়োজনের বাইরেও কেউ অর্ডার দিলে অর্থের বিনিময়ে করে দিই। তবে আজকালকার অনেক মেয়ে কোমরতাঁতে কাপড় বুনতেও পারে না।’
কোমরতাঁতশিল্পী হেলেনা ত্রিপুরা (৪০) বলেন, ‘কোমরতাঁতে বা উঠান তাঁতে যে পণ্যগুলো তৈরি হয়, স্থানীয়ভাবে বাজারজাত করার কোনো সুযোগ নেই। সরকারিভাবে যদি উদ্যোগ নিয়ে বিপণনের ব্যবস্থা করা না হয়, তবে এই তাঁত হারিয়ে যাবে।’ দশকের পর দশক ধরেই পাহাড়ি নারীরা এ পেশায় যুক্ত। পুরুষের পাশাপাশি সংসারের ব্যয় ও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ এই তাঁত থেকেই আসে বলে জানান তিনি।
ষাটোর্ধ্ব ঞোওয়ে নামে এক প্রবীণ কোমরতাঁতশিল্পী বলেন, ‘এটি আমাদের পাহাড়ের ঐতিহ্য। যুগ যুগ ধরে আমরা কাপড় বুনন করে আসছি কোমরতাঁত দিয়ে। কিন্তু এখন বাজার থেকে সুতা কিনে কাপড় তৈরি করব, সেই সামর্থ্য নেই। সুতার দাম বাড়তি, তাই সরকার যদি সুতার দাম কমায়, তাহলে আমরা খুবই উপকৃত হব।’
থানচি সদর ইউনিয়নের আমতলীপাড়া বাসিন্দা য়ইহ্লাচিং মারমা (৬০) বলেন, ‘কোমরতাঁতে একটি চাদর তৈরিতে বর্তমানে ১ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়। সময় লাগে অন্তত ৭ দিন। শ্রম মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু বিক্রি করতে গেলে সর্বোচ্চ পাওয়া যায় ২ হাজার টাকা। কখনো কখনো দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়ও বিক্রি করতে হয়। খরচের চেয়ে দাম কম পাওয়ায় এ শিল্প হারাতে বসেছে।’
যোগাযোগ করা হলে বান্দরবান জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুপন চাকমা বলেন, ‘জেলায় কোমরতাঁতের একটি বিপণনকেন্দ্র রয়েছে কুটির শিল্প নামে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত কোনো প্রকার সরকারি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়নি। কোমরতাঁত নিয়ে নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানাব।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেছেন বিএনপি নেতা। সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যায় বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচার করার অভিযোগে গাজীপুর আদালতে এ মামলা করেছেন তিনি।
১৭ দিন আগেলক্ষ্মীপুরে রামগতিতে নৌকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ফারুক হোসেন (৪০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন দুজন। এখনো চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন আরও দুজন। আজ মঙ্গলবার ভোরে জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুক হোসেন মারা যান।
১৭ দিন আগেদুই বছর আগে ফেনী পৌরসভার সুমাইয়া হোসেন আনিকা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সিং ও গ্রাফিক ডিজাইনের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন অনলাইন প্রতিষ্ঠানে চাকরির চেষ্টা করেও সফল হননি। এখন স্বামীর অনলাইন ব্যবসা দেখাশোনা করছেন। আনিকা বলেন, ‘প্রশিক্ষণ পেয়েছি, কিন্তু কাজের সুযোগ খুবই কম।’ আনিকার
১৭ দিন আগেচট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলন দমাতে টাকা দাবির ভিডিও ভাইরালের পর এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম নগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিনকে কেন্দ্র থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তাঁর লিখিত ব্যাখা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দলকে জানানো কথা বলা হয়েছে।
১৮ দিন আগে